ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প ও Eric Trump মিয়ামি ফেডারেল কোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা (IRS) ও মার্কিন ট্রেজারিকে ১০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭.২৫ বিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দাবি করে নাগরিক মামলা দায়ের করেছে।
মামলাটি তাদের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কর রিটার্নের গোপনীয় তথ্য প্রকাশের জন্য দায়ী করা হয়েছে, যা একটি প্রাক্তন IRS কন্ট্রাক্টর চার্লস “চ্যাজ” লিটলজনের মাধ্যমে মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছিল। লিটলজনকে গোপনীয় কর তথ্য চুরি ও প্রকাশের অভিযোগে ২০২৩ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বারবার দাবি করেন যে তিনি তার কর রিটার্ন প্রকাশ করতে অস্বীকার করছেন, কারণ তিনি অডিটের অধীনে ছিলেন। তবে সেপ্টেম্বর ২০২০-এ নিউ ইয়র্ক টাইমস তার কর রিটার্নের বিশদ প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরটি মাত্র ৭৫০ ডলার ফেডারেল আয়কর প্রদান করেছেন এবং পূর্বের ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরে কোনো কর দেননি। দুই বছর পরে, ২০২২-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই নথিপত্রগুলো প্রকাশ করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে IRS ও মার্কিন ট্রেজারির গোপনীয় আর্থিক তথ্য রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তারা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। দায়িত্বহীনতা ফলস্বরূপ তথ্য ফাঁস হয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারকে আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি করেছে।
দায়ের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রকাশিত তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ProPublica-কে সরবরাহ করা হয়, যা ব্যবসায়িক সুনামকে “অন্যায়ভাবে দাগযুক্ত” করে এবং জনমতকে ভুলভাবে গঠন করে। এই ঘটনার ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পুত্রদের পাবলিক ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
লিটলজন ২০২৩ সালে কর তথ্য চুরি ও প্রকাশের অপরাধে দোষী স্বীকার করেন এবং ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আদালতে তার দোষ স্বীকারোক্তি ও শাস্তি মামলার মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
IRS ও মার্কিন ট্রেজারির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে মামলাটি ফেডারেল আদালতে চলমান থাকায় উভয় সংস্থার আইনি প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থাগুলোর গোপনীয় তথ্য রক্ষার পদ্ধতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন নীতি গঠন হতে পারে।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হয়। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি স্বীকৃত হয়, তবে সরকারী সংস্থাগুলোর গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে নতুন আইনি মানদণ্ড স্থাপিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ লিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আদালত উভয় পক্ষের প্রমাণ পরীক্ষা করবে এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য শুনানি পরিচালনা করবে। উভয় সংস্থার আইনি দল সম্ভবত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নেওয়া অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার যথার্থতা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবার ক্ষতিপূরণ ও সুনাম পুনরুদ্ধারের দাবি বজায় রাখবে।



