জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলোতে ২০২৫‑২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ (সম্মান) স্নাতক ভর্তি প্রাথমিক আবেদন এখনই শুরু হয়েছে। আবেদনকারীদের শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি রাত বারোটা, অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই সময়ের মধ্যে অনলাইন ফরম পূরণ করে আবেদন সম্পন্ন না করলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারাতে পারে।
আবেদন ফরমটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd/admissions) উপলব্ধ। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সরাসরি সাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে ফরম পূরণ করতে পারবেন। ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা পূর্বে ঘোষিত শর্তাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রাথমিক আবেদন ফি এক হাজার টাকা, যা আবেদনকারী যে কলেজে ভর্তি হতে চায় তার নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অথবা সরাসরি নগদে জমা দিতে পারে। ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তাই সময়মতো অর্থ প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। ফি না দিলে আবেদন ফরম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
আবেদন সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তাবলী পূর্বের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত একই রকম রয়ে গেছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীকে ভর্তি নির্দেশিকায় নির্ধারিত সব মানদণ্ড মেনে চলতে হবে, যেমন ন্যূনতম জিপিএ, নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ডকুমেন্টের সত্যতা। এই শর্তগুলো পূরণ না করলে আবেদন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা থাকে।
ভর্তি পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ও পরীক্ষার কেন্দ্রের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি; বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী সময়ে তা জানাবে। তাই আবেদনকারীদের অফিসিয়াল নোটিশ ও ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত, যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস না হয়।
২০২৫‑২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। মানবিক, বিজ্ঞান এবং ব্যবসা শিক্ষা শাখার জন্য আলাদা ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা, যেখানে মোট একশোটি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে, এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সঠিক হলে নির্ধারিত নম্বর যোগ হবে।
এমসিকিউ ফলাফলের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীর এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ থেকে প্রাপ্ত স্কোরও মোট ২০০ নম্বরের মধ্যে গণনা করা হবে। এসএসসি ফলাফল থেকে ৪০ শতাংশ এবং এইচএসসি ফলাফল থেকে ৬০ শতাংশ স্কোর যোগ করে মোট ১০০ নম্বরের অংশ গঠন করবে। এই দুই অংশের সমন্বয় এবং এমসিকিউ ফলাফল একত্রে বিষয়ভিত্তিক মেধাতালিকা তৈরি করবে।
প্রশ্নের ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটার ব্যবস্থা থাকবে না; অর্থাৎ, ভুল উত্তর দিলে শূন্যই গৃহীত হবে, তবে কোনো শাস্তি হবে না। এই নীতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে উৎসাহিত করবে এবং পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত চাপ কমাবে।
প্রার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: আবেদন ফরম পূরণের আগে সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি) স্ক্যান করে সংরক্ষণ করুন এবং ফরমে আপলোডের সময় ফাইলের সাইজ ও ফরম্যাটের নিয়ম মেনে চলুন। এছাড়া, ফি জমা দেওয়ার রসিদ সংরক্ষণ করে রাখলে পরবর্তীতে কোনো ত্রুটি হলে তা সহজে প্রমাণ করা যাবে। এই প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তের ঝামেলা কমিয়ে সফলভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।



