পাকিস্তান দলের ক্যাপ্টেন সালমান আলি আগা আগামী আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য নিজের ব্যাটিং অবস্থান নং ৩-এ স্থির করার কথা জানিয়েছেন। তিনি এই সিদ্ধান্ত লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ত্রয়ী সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচের পর প্রকাশ করেন। ক্যাপ্টেনের এই পরিবর্তন দলীয় কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
আগা টি২০ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় টপ ছয়-এর শেষের দিকে ব্যাট করেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক বিকল্প তৈরি করার জন্য নং ৩-এ উঠে আসতে চান। এই পদক্ষেপের পেছনে তার ব্যক্তিগত খেলা শৈলীর সঙ্গে স্পিন বোলারদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ওভারগুলোতে দৌড়ে দৌড়ে রান সংগ্রহের ইচ্ছা রয়েছে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম টি২০ই-তে আগা দ্রুতগতিতে ৩৯ রান যোগ করেন, যা পাকিস্তানের ২২ রানের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শুরুর ড্রপের পরে দ্রুতই আক্রমণাত্মক স্বরূপে খেলায় প্রবেশ করে দলকে স্থিতিশীলতা দেন। এই পারফরম্যান্সের পর তিনি নং ৩-এ নিজের অবস্থান নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সালমান আলি আগা সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ এবং টি২০ বিশ্বকাপের শুরুর জন্য নং ৩-এ ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা শীঘ্রই অনেক স্পিনের মুখোমুখি হব, এবং পাওয়ারপ্লে-এ স্পিনকে নিয়ন্ত্রণ করা আমার শক্তি। তাই আমি এই অবস্থানে উঠে এসেছি এবং এখানেই থাকব।” এই মন্তব্য তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
আগার এই পদোন্নতি বাবর আজমের ব্যাটিং ভূমিকেও পরিবর্তন করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ওভারে বাবর আজম নং ৪-এ এসে ২০ ball-এ ২৪ রান করেন। তার এই স্বল্প সময়ের পারফরম্যান্স দলকে মাঝারি গতি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, তবে আগার নং ৩-এ অবস্থান বাবর আজমকে আরও নমনীয় ভূমিকা নিতে বাধ্য করতে পারে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওপেনার সাইম আয়ুব ৪০ রান করে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ শিরোপা জিতেছিলেন। পাকিস্তান ২০ ওভারে ১৬৮/৮ স্কোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয়। অস্ট্রেলিয়া ছয়টি উইকেট স্পিনের মাধ্যমে হারিয়ে যায় এবং লক্ষ্য স্কোরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এই জয় পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি দৃঢ় করেছে।
আগা ম্যাচের পর তার মন্তব্যে বলেন, “খেলা চমৎকার ছিল, শুরুর ব্যাটিং ভাল ছিল কিন্তু শেষের দিকে আমরা কাঙ্ক্ষিতভাবে শেষ করতে পারিনি। প্রথম দশ ওভারে বল ব্যাটে না এসে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল, তবে বলিং দিক থেকে আমরা উৎকৃষ্ট ছিলাম। আমার মতে ১৭০ স্কোর যথেষ্ট ছিল; দশ ওভারের পর অবস্থান বিবেচনা করলে আমরা ১৫ রান বেশি করতে পারতাম, তবে এই পিচে ১৭০ যথেষ্ট।” তার বিশ্লেষণ দলীয় কৌশলের মূল দিকগুলোকে তুলে ধরে।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে পাকিস্তান আগের মতোই নং ৩-এ আগার নেতৃত্বে খেলবে এবং টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবে। বিশ্বকাপের সূচনা শীঘ্রই, এবং আগার এই কৌশলগত পরিবর্তন দলকে স্পিন-প্রবণ পিচে দ্রুত রান সংগ্রহে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, এবং পাকিস্তান এই সিরিজের পারফরম্যান্সকে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করবে। সিরিজের বাকি দুই টি২০ই-তে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাবে।



