ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের সম্ভাবনা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমাতে চান। ইরান যদি আমেরিকান বেস ও বিমানবাহিনীর ওপর আক্রমণ করে, তবে তা অঞ্চলে বিশাল উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ নৌবহরকে পার্সে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমি ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি এবং আরও পরিকল্পনা করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের একটি দল ইরান নামে এক স্থানে পাঠানো হয়েছে, এবং আশা করি সেটি ব্যবহার করতে হবে না।” এই বক্তব্যটি তার স্ত্রী মেলানিয়ার ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ারে মিডিয়ার সামনে দেওয়া হয়।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্র টেলিভিশনে ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর “গুরুতর দুর্বলতা” রয়েছে এবং গালফের বেশ কয়েকটি আমেরিকান বেস তাদের মধ্যম-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসরের মধ্যে। তিনি সতর্ক করেন, “যদি আমেরিকানরা কোনো ভুল গণনা করে, তবে তা ট্রাম্পের কল্পনার মতো দ্রুত শেষ হবে না; দুই ঘণ্টা পর টুইটে অপারেশন শেষের ঘোষণা করা সম্ভব নয়।”
জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্টোনিও গুটেরেস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এমন একটি সংকট অঞ্চলকে ধ্বংসাত্মক পরিণতি দিতে পারে, তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান দরকার।”
গালফের এক কর্মকর্তা এফপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এমন কোনো পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তেল-গ্যাসের দাম উড়ে যাবে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ এবং কাতারের নেতা শেইখ তামিম বিন হামাদ আল থানি উভয়ই ইরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পেজের মতে, ইরান কোনো আক্রমণের পর তাত্ক্ষণিক এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে পার্সে একটি বড় নৌবহর পাঠিয়েছে, যা ইরানের সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত। এই নৌবহরে একাধিক ক্যারিয়ার জাহাজ ও সহায়ক জাহাজ অন্তর্ভুক্ত, যা অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো চুক্তি ঘোষণা করেননি, তবু তার কথায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভুল গণনা হলে তা দ্রুত ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, যা কেবলমাত্র সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার জাহাজের দুর্বলতা তুলে ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা জোর দিয়ে বলেছে।
জাতিসংঘের আহ্বান সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের উপস্থিতি গালফের দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। গালফের দেশগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামরিক পদক্ষেপের সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষই তাদের মত প্রকাশ করেছে। তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইরানের সামরিক মুখপাত্রের সতর্কবার্তা এবং জাতিসংঘের কূটনৈতিক আহ্বান একসাথে গঠন করছে একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে কেন্দ্রীভূত, যা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক তেল বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।



