23 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প ইউকে-চীন সম্পর্ককে ‘বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউকে-চীন সম্পর্ককে ‘বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য ও চীনের বাণিজ্যিক সংযোগকে “খুবই বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই মন্তব্যটি মেলানিয়ার উপর একটি ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ারে প্রশ্নের উত্তরে দেন, যেখানে যুক্তরাজ্যের চীন‑সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বৃদ্ধির বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল।

সার কীয়ার স্টার্মার, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেইজিং সফর শেষ করে ফিরে এসেছেন। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গৃহসভায় সাক্ষাৎ করার পর উভয় পক্ষই নতুন চুক্তি ঘোষণার ঘোষণা দেয়।

এই চুক্তিগুলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেছে। ভিসা‑মুক্ত ভ্রমণ, হুইস্কি শুল্ক হ্রাস এবং চীনে অস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির £১০.৯ বিলিয়ন মূল্যের উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় সহযোগিতা বাড়ানোরও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সার কীয়ার স্টার্মার বেইজিংয়ের ব্যাংক অফ চায়না হোলে অনুষ্ঠিত ইউকে‑চীন ব্যবসা ফোরামে বলেন, যুক্তরাজ্যের চীনের সঙ্গে সম্পর্ক “ভালো, শক্তিশালী” অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে “খুবই ফলপ্রসূ” বৈঠকগুলো প্রত্যাশিত মাত্রার সম্পৃক্ততা প্রদান করেছে এবং যুক্তরাজ্যের কাছে চীনের কাছে অফার করার মতো বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটিশ চেম্বার অফ কমার্স ইন চায়না’র চেয়ারম্যান ক্রিস টোরেন্স সফরের সফলতা প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য চীনকে বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে দেখা স্বাভাবিক, কারণ চীন তার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। টোরেন্স আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর বেশ কয়েকটি নেতাই সম্প্রতি বেইজিং ভ্রমণ করেছেন অথবা শীঘ্রই করবেন।

টোরেন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি অন্যান্য অর্থনীতির ওপর শাস্তি আর শুল্ক আরোপের দিকে ঝুঁকেছে, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও চীনের সঙ্গে চুক্তি করার সম্ভাবনা রাখে। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে চীন সফরের সম্ভাবনা উল্লেখ করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকোপ আনতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তা যুক্তরাজ্যের চীন‑সংশ্লিষ্ট নীতি নিয়ে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের সরকারকে চীন‑সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোকে কৌশলগতভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় বজায় থাকে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই রকম প্রকাশ্য মন্তব্য ভবিষ্যতে ইউকে‑চীন সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন ট্রাম্পের চীন সফর সম্ভাব্যভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক আলোচনার সূচনা করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের “বিপজ্জনক” মন্তব্য, সার কীয়ার স্টার্মারের বেইজিং সফর এবং নতুন চুক্তিগুলো একসঙ্গে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক গতিপথকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের বিকাশ কীভাবে হবে, তা আন্তর্জাতিক নীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments