বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদী-২ (পলাশ) ঘোড়াশাল এলাকায় এনসিপিআই ও এগারো দলীয় জোটের আয়োজনকৃত নির্বাচনী জনসভায় এনসিপিআইর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে আরেক স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসানো কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য নয় এবং দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সংস্কার ও ঐক্যের প্রয়োজন, ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি নয়।
নাহিদের মতে, কোনো দল যদি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে সংস্কার দাবি করে, তবে তা বাস্তবে লুটপাট ও অর্থ পাচারের পরিকল্পনা হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ভেঙে পড়েছে এবং তা পুনরুজ্জীবিত করতে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের প্রভাব দূর করা জরুরি, কারণ চাঁদাবাজির রাজনীতি দেশের সম্ভাবনাকে ক্ষয় করছে। নাহিদের এই মন্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ‘শাপলা কুঁড়ি’ প্রতীকের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের সমর্থন কামনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে যাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।
জনসভায় এনসিপিআইর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নরসিংদীসহ সারা দেশে শিল্পক্ষেত্রের সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এনসিপিআইর মূল লক্ষ্য।
আসিফের বক্তব্যে আরও বলা হয়, যারা আবার আওয়ামী লীগ হতে চায় এবং যারা তাদের ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের সমালোচনায় পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
এই জনসভার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নাহিদের মন্তব্য এবং এনসিপিআইর নির্বাচনী কৌশল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। বিশেষত ‘শাপলা কুঁড়ি’ প্রতীক এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
নরসিংদী-২ (পলাশ) অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এই সভা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতিরা নাহিদের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এনসিপিআইর নেতৃত্বের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা থেকে মুক্তি দেবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভোটের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গড়ে উঠবে।
সামগ্রিকভাবে, নাহিদের মন্তব্য এবং এনসিপিআইর নির্বাচনী পরিকল্পনা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও নেতৃত্বের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



