টিএ২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালে যুবরাজ সিংকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত এ ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক দ্রুত ফিফটির পারফরম্যান্স। ২০০৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং ষাট ওভারে ছয়টি ছক্কা, বারোটি বলের ফিফটি করে তৎকালীন রেকর্ড গড়েছিলেন। ঐ রেকর্ডটি নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরী ৯ বলের ফিফটি দিয়ে ভেঙে গিয়েছে, তবে টেস্ট ফরম্যাটে এখনও কেউ যুবরাজকে পেছনে ফেলতে পারেনি।
যুবরাজের ক্যারিয়ারে বহুবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হুমকির মুখে পড়েছেন, তবে এখন তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হল নিজের দেশ, ভারত এ, থেকে আসা ব্যাটসম্যানরা। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি সিরিজে ভারত এ ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে দ্রুত ফিফটি তৈরি করেছেন। তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক শর্মা মাত্র চৌদ্দ বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান সংগ্রহ করেন, যা আন্তর্জাতিক পূর্ণ সদস্যের দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি হিসেবে স্বীকৃত।
অভিষেক শর্মা সিরিজের প্রথম ম্যাচে চব্বিশ বলের মধ্যে চব্বিশটি রান করে ২২ বলের ফিফটি করেন, যা তার দ্রুততার ধারাকে আরও দৃঢ় করে। সিরিজের চতুর্থ টিএ২০তে অলরাউন্ডার শিবম দুবে পনেরো বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান তৈরি করেন, যা আবার নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। এই দুই পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া এবং রিংকু সিংরাও দ্রুত ফিফটি করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন, যা ভারত এ ব্যাটিং লাইন‑আপকে আরও হুমকিপূর্ণ করে তুলেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের ওপেনার কুইন্টন ডি ককও দ্রুত ফিফটির তালিকায় রয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি পশ্চিম ইন্ডিজের বিপক্ষে পনেরো বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম দ্রুত ফিফটি। ডি কক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা এ বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত, ফলে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত স্কোরিংয়ের একটি অতিরিক্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কো ইয়ানসেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শাই হোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিডও টিএ২০ বিশ্বকাপে দ্রুত ফিফটি করার সম্ভাবনা রাখেন। মার্কো ইয়ানসেন ইতিমধ্যে ষোলো বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান করেছেন, আর শাই হোপ ও ডেভিডের নামেও একই রকম পারফরম্যান্সের রেকর্ড রয়েছে। এই সব খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে দ্রুত স্কোরিংকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
ভারত এ দলের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হার্দিক পান্ডিয়া, যিনি টিএ২০তে ষোলো বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান করার রেকর্ড রাখেন। তার ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা দলকে মাঝখানে দ্রুত রেট গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
গত বছর আন্তর্জাতিক টিএ২০তে পূর্ণ সদস্যের দেশগুলোর খেলোয়াড়রা চৌদ্দবার ২০ বা তার কম বলের মধ্যে ফিফটি করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা সাতজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা দ্রুত ফিফটির প্রবণতা নির্দেশ করে। চলতি বছরেও অভিষেক শর্মা ও শিবম দুবে ২০ বলের কমে ফিফটি করেছেন, ফলে দ্রুত ফিফটির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে টিএ২০ বিশ্বকাপে ১২ বলের ফিফটি রেকর্ড ভাঙা সম্ভব কিনা, তা এখনই পরীক্ষা করার বিষয়। যুবরাজ সিং যদি আবার দ্রুত ফিফটি করতে পারেন, তবে তার রেকর্ড পুনরায় স্থাপিত হতে পারে, অথবা ভারত এ ব্যাটসম্যানদের নতুন পারফরম্যান্সই রেকর্ডকে বদলে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ভারত এ দল প্রথম ম্যাচে নিজ ঘরে শত্রু দলের মুখোমুখি হবে, যেখানে দ্রুত ফিফটির ধারাবাহিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে। কোচিং স্টাফের মন্তব্যে বলা হয়েছে, দ্রুত স্কোরিংয়ের ক্ষমতা টিএ২০ ফরম্যাটে জয়ের চাবিকাঠি, এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এই দিকেই কেন্দ্রীভূত হবে।
সারসংক্ষেপে, যুবরাজ সিংয়ের অতীতের রেকর্ড ও বর্তমানের দ্রুত ফিফটি পারফরম্যান্সের তুলনা দেখায় যে টিএ২০ বিশ্বকাপে স্কোরিং গতি একটি নতুন প্রতিযোগিতার স্তরে পৌঁছেছে। ভারত এ ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক দ্রুত ফিফটি, দক্ষিণ আফ্রিকা এ ও অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের রেকর্ড, এবং যুবরাজের সম্ভাব্য পুনরায় রেকর্ড গঠনের সম্ভাবনা সবই এই টুর্নামেন্টকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচের তারিখ ও প্রতিপক্ষের তথ্য টিএ২০ অফিসিয়াল ক্যালেন্ডারে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ভারত এ দলকে প্রথম দুই ম্যাচে ঘরের মাঠে শত্রু দলের মুখোমুখি হতে হবে। এই ম্যাচগুলোতে দ্রুত ফিফটির পারফরম্যান্সই হবে মূল আকর্ষণ, এবং দর্শকরা প্রত্যাশা করছেন কোন দল দ্রুত স্কোরিংয়ে সবার আগে পৌঁছাবে।



