ফেব্রুয়ারি ১৩, শুক্রবার ‘Cold Storage’ শিরোনামের নতুন বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী হরর কমেডি বড় পর্দায় প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় নির্মিত ছবিটি ডেভিড কোয়েপের ২০১৯ সালের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে, এবং জোনি ক্যাম্পবেল পরিচালনা করেছেন। প্রধান ভূমিকায় জো কিরি, জর্জিনা ক্যাম্পবেল, লিয়াম নিসন, সোসি বেকন, লেসলি ম্যানভিল, ভ্যানেসা রেডগ্রেভ এবং রিচার্ড ব্রেক অন্তর্ভুক্ত।
কাহিনীটি একটি দূরবর্তী মহাকাশ থেকে আগত ফাঙ্গাল ভাইরাসের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা গবেষণা কেন্দ্রে লুকিয়ে রাখা হয়। ভাইরাসটি দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় এবং মানবজাতিকে ছাঁচে পরিণত করে মারাত্মক অস্ত্রের রূপে রূপান্তরিত করার হুমকি সৃষ্টি করে। ছবির শুরুতে একটি শিরোনাম কার্ডে দর্শকদের সতর্ক করা হয় যে ঘটনার প্রকৃততা বাস্তব, যা পরবর্তী অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে।
‘Cold Storage’ বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার এবং থ্রিলারের উপাদানগুলোকে একত্রে মেশিয়ে একটি সমন্বিত শৈলী গড়ে তুলেছে। হরর উপাদানগুলোকে হালকা হাস্যরসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে ভয় ও মজার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় থাকে। ছবির দৃশ্যগুলোতে রক্তাক্ত গ্যাংগস্টার এবং ফাঙ্গাল স্পোরের ভয়াবহতা একসাথে উপস্থাপিত, যা দর্শকের মনোযোগকে ধারাবাহিকভাবে টানে।
উপন্যাসটি প্রকাশের পর দুই বছর পরই চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দীর্ঘ সময়ের পরই স্ক্রিনে আসা দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। কোয়েপ নিজেই স্ক্রিনরাইটার হিসেবে কাজ করেছেন, ফলে মূল গল্পের মূল সত্তা বজায় রেখে আধুনিক সিনেমাটিক উপাদান যোগ করা সম্ভব হয়েছে। দেরি সত্ত্বেও, ছবিটি এখনো তার মূল থিম এবং সাসপেন্স বজায় রেখেছে।
কাস্টের মধ্যে জো কিরি, যিনি তার স্বাভাবিক সাদা-বাদামী চুলের রঙ এবং নিরুদ্বেগ স্বভাবের জন্য পরিচিত, ‘Stranger Things’ সিরিজের ভক্তদের আকৃষ্ট করতে পারে। জর্জিনা ক্যাম্পবেল শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী চরিত্রে উপস্থিত, আর লিয়াম নিসন অভিজ্ঞতা ও গম্ভীরতা যোগ করে। সোসি বেকন, লেসলি ম্যানভিল, ভ্যানেসা রেডগ্রেভ এবং রিচার্ড ব্রেকের পারফরম্যান্স ছবিতে অতিরিক্ত গভীরতা এবং বৈচিত্র্য এনে দেয়।
পরিচালক জোনি ক্যাম্পবেল হরর ও কমেডির মিশ্রণে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। কোয়েপের মূল রচনার সাথে তার দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে, ছবিতে পুরনো দশকের নস্টালজিক অনুভূতি এবং আধুনিক ভিজ্যুয়াল এফেক্টের সমন্বয় ঘটেছে। ক্যাম্পবেলের পরিচালনায় দৃশ্যগুলোতে রঙের ব্যবহার এবং ক্যামেরার গতিবিধি বিশেষভাবে নজরকাড়া, যা ভয় ও হাসির মিশ্রণকে আরও তীব্র করে।
চিত্রনাট্যটি পুরনো ৮০-এর দশকের সাই-ফাই সিনেমার স্মৃতি জাগিয়ে তুললেও, তা অতিরিক্ত জটিল না হয়ে সহজবোধ্য রয়ে গেছে। ছবির পটভূমি ও সাউন্ডট্র্যাকের মাধ্যমে একটি রেট্রো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের পুরনো সিনেমার স্বাদ দেয়, তবে নতুন প্রজন্মের জন্যও গ্রহণযোগ্য।
হাস্যরসের ক্ষেত্রে ছবিটি মাঝেমধ্যে অপ্রত্যাশিত রসিকতা ব্যবহার করে, যা ভয়াবহ দৃশ্যের সঙ্গে মিশে সামান্য হালকা পরিবেশ তৈরি করে। যদিও সব মুহূর্তে হাসি না পেলেও, সামগ্রিকভাবে ছবির মজার দিকটি দর্শকের মনোযোগ বজায় রাখে এবং অতিরিক্ত গম্ভীরতা থেকে মুক্তি দেয়।
‘Cold Storage’ রেটেড আর (R) রেটিং পেয়েছে এবং মোট সময়কাল এক ঘণ্টা চৌত্রিশ মিনিট। চলচ্চিত্রটি রেটিং অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য উপযুক্ত, যেখানে রক্তপাত, ভয়াবহ দৃশ্য এবং তীব্র হাস্যরসের মিশ্রণ রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, দীর্ঘ সময়ের পর প্রকাশিত এই চলচ্চিত্রটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মনোরঞ্জন প্রদান করে। শক্তিশালী কাস্ট, সৃজনশীল পরিচালনা এবং বৈচিত্র্যময় শৈলীর সমন্বয় এটিকে একটি মজার সাই-ফাই হরর কমেডি হিসেবে উপস্থাপন করে। যদিও কিছু অংশে গল্পের গতি ধীর হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি একটি উপভোগ্য সিনেমা, যা ভক্তদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম।



