জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শাফিকুর রহমান গতকাল কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে ১১-দলীয় জোট শাসন গ্রহণ করলে এক্সটর্সনের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জোটের শাসনে ৯০ শতাংশ এক্সটর্সনকারী আর জনগণের উপর হাত বাড়াতে পারবে না, আর বাকি ১০ শতাংশকে প্রথমে অনুরোধ করা হবে, অস্বীকার করলে ‘যা দরকার হবে তা করা হবে’।
শাফিকুরের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, এক্সটর্সনকারী কোনো ব্যক্তির পিতা, ভাই বা সন্তান হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে নির্দয়, অমীমাংসিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মন্তব্যগুলো তিনি ধারা-১২ নির্বাচনী র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে, ধারা-১২ নির্বাচনী প্রার্থী সাইফুল আলম খানকে সমর্থন জানিয়ে দেন।
র্যালির সময় শাফিকুর এক্সটর্সন, দুর্নীতি ও জমি জবরদস্তি বন্ধ হলে দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে অগ্রসর হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার ও সমতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “এক্সটর্সনকারী, জমি জবরদস্তি করা, মামলায় হেরফের করা ও দুর্নীতিগ্রস্তরা সাধারণ মানুষকে শিকারের মতো তাড়া করে।”
ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে এক্সটর্সনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে আহ্বান জানান শাফিকুর, এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে ‘অনুৎসাহজনক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মহিলারা হয়রানির শিকার, মানুষকে হামলায় হত্যা করা হচ্ছে, অফিসে আগুন লাগছে, নির্বাচনী প্রচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সংঘর্ষের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।”
শাফিকুর সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা জনমতের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। তিনি প্রতিপক্ষ দলকে অনুরোধ করেন, অন্যদের সম্মান করে তারা যে গণতন্ত্রের গৌরব গাইছে, তা বাস্তবে মেনে চলতে।
র্যালির পর শাফিকুরের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য নেতারা অতীতের বিএনপি সরকারের দুর্নীতির কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের দুর্নীতির সূচক বিশ্বে শীর্ষে ছিল।
এই প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ময়মনসিংহে একটি র্যালিতে প্রশ্ন তোলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে দু’জন পার্টি সদস্যই বিএনপি সরকারের অংশ ছিল। যদি বিএনপি সরকার দুর্নীতিতে ভরা ছিল, তবে কি তা স্বীকার করা যায়?” শাফিকুরের মন্তব্যের সঙ্গে তারেকের এই প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শাফিকুরের র্যালি বক্তৃতা শেষের দিকে তিনি উল্লেখ করেন, এক্সটর্সন ও দুর্নীতি দমন না হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি থেমে যাবে। তিনি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, “আপনারা যদি একসাথে দাঁড়ান, তবে এক্সটর্সন বন্ধ করা সম্ভব।”
র্যালির অংশগ্রহণকারীরা শাফিকুরের ‘নির্দয়’ ও ‘অমীমাংসিত’ পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন, তবে কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, বাস্তবে কীভাবে এই নীতি কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শাফিকুরের বক্তব্যে তিনি আবারও জোর দেন, এক্সটর্সনকারীকে তাদের পারিবারিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, সমানভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যদি কেউ শাসনকালে এক্সটর্সন বন্ধ করতে না পারে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই র্যালি ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। র্যালির পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল, তবে শাফিকুরের তীব্র ভাষা উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
শাফিকুরের র্যালি বক্তৃতা শেষে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়। তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি মেনে চলা এবং অন্য দলের প্রতি সম্মান দেখানোই আমাদের সবার দায়িত্ব।”
র্যালি শেষে জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য নেতারা শাফিকুরের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়ে, এক্সটর্সন ও দুর্নীতি মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনের পর এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
শাফিকুরের এই ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি ও তার জোটের শাসন আসে, তবে এক্সটর্সন বিরোধী নীতি দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।
সারসংক্ষেপে, শাফিকুর রহমানের র্যালি বক্তৃতা এক্সটর্সন বন্ধের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে, এবং তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে জনমতের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



