সান ফ্রান্সিসকোর ইন্সুরটেক স্টার্ট‑আপ ইথোস টেকনোলজিস বৃহস্পতিবার নাসডাকে “LIFE” টিকারে তালিকাভুক্ত হয়। এই প্রাথমিক টেক আইপিওটি ২০২৬ সালের তালিকা চক্রের সূচনাকারী হিসেবে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কোম্পানি এবং এর বিক্রয়কারী শেয়ারহোল্ডার প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে ১০.৫ মিলিয়ন শেয়ার, প্রতি শেয়ার $১৯ মূল্যে বিক্রি করে।
ইথোসের ব্যবসা মডেল তিন-পার্শ্বিক প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে গ্রাহকরা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াই দশ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে জীবন বীমা পলিসি ক্রয় করতে পারে। কোম্পানি দাবি করে যে ১০,০০০েরও বেশি স্বাধীন এজেন্ট তার সফটওয়্যার ব্যবহার করে পলিসি বিক্রি করে এবং লিগ্যাল অ্যান্ড জেনারেল আমেরিকা ও জন হ্যানকক সহ বেশ কয়েকটি বড় বীমা ক্যারিয়ার তাদের আন্ডাররাইটিং ও প্রশাসনিক সেবা নিতে নির্ভর করে। ইথোস নিজে কোনো বীমা প্রদানকারী নয়; এটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি হিসেবে বিক্রয় থেকে কমিশন অর্জন করে।
প্রথম ট্রেডিং দিনে শেয়ার মূল্য $১৬.৮৫-এ বন্ধ হয়, যা প্রাথমিক অফার মূল্যের $১৯ থেকে প্রায় ১১% কম। যদিও শেয়ার মূল্য প্রত্যাশার নিচে নেমে আসে, তবু প্রতিষ্ঠাতারা পিটার কলিস এবং লিংক ওয়াং কোম্পানিকে দশ বছরের মধ্যে পাবলিক মার্কেটের স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় গর্ব প্রকাশ করেন।
ইথোসের সূচনাকালে বাজারে প্রায় আট-নয়টি অনুরূপ জীবন বীমা টেক স্টার্ট‑আপ সক্রিয় ছিল, যাদের অধিকাংশই সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন, ছোট স্কেলে অধিগ্রহণ অথবা সম্পূর্ণ বন্ধের মুখে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, পলিসিজিনিয়াস ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহের পর ২০২৩ সালে পিই‑সমর্থিত জিনিয়া গ্রুপের অধিগ্রহণে যায়। অন্যদিকে, হেলথ আইকিউ, যা অ্যান্ড্রেসেন হরোভিটজসহ প্রধান ভিসি থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছিল, একই বছর দেউলিয়া ঘোষণা করে।
ইথোস নিজে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহ করেছে, যা একই সেক্টরের অনেক প্রতিযোগীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য। তবে কোম্পানি সস্তা মূলধনের যুগের শেষের সঙ্গে সঙ্গে লাভজনকতা অর্জনের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে, ফলে অতিরিক্ত তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থায়ী ব্যবসা মডেল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
ইথোসের আইপিও বাজারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বিশেষ করে বীমা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় তহবিল সংগ্রহের পরেও লাভজনকতা বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে। বিনিয়োগকারীরা এখন এই ধরনের মডেলকে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের সূচক হিসেবে দেখতে শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের তালিকা চক্রে অন্যান্য টেক কোম্পানির জন্য রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।
তবে বাজারে কিছু ঝুঁকি অবশিষ্ট রয়েছে। বীমা শিল্পের নিয়ন্ত্রক পরিবেশের পরিবর্তন, গ্রাহকের আচরণে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ইথোসের আয় ও বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাছাড়া, শেয়ার মূল্যের প্রাথমিক পতন বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাসে সাময়িক ক্ষতি ঘটাতে পারে, যা পরবর্তী ত্রৈমাসিকের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
সামগ্রিকভাবে, ইথোসের তালিকাভুক্তি বীমা প্রযুক্তি সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফলাফল ও লাভজনকতা লক্ষ্য করে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি গঠন হবে, এবং এটি ২০২৬ সালের আইপিও প্রবণতাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।



