২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে মোট পনেরো প্রার্থীর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই নির্বাচনী লড়াইতে প্রধানত তিনজন ‘সাইফুল’ের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত, যেখানে ভোটাররা তাদের পার্থক্য ও সমর্থন ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।
ঢাকা-১২ একটি উচ্চ ঘনত্বের করিডোর, যেখানে শিল্প, বাণিজ্য ও বাসিন্দা একসঙ্গে মিশে আছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকা, দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এবং বহু ব্যবসা সদর দপ্তরের সমাবেশ এই নির্বাচনী এলাকার বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে এখানে বিশাল আবাসিক এলাকা বিস্তৃত, যা ভোটার গোষ্ঠীকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
এই আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি, জাতীয় দল, বিপ্লবী শ্রমিক পার্টি, গণসমাজত আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, গণঅধিকার পার্ষদ এবং অন্যান্য দলসহ মোট পনেরো দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণ রয়েছে। প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, তবে ভোটারদের দৃষ্টিতে মূল দিকটি তিনজন ‘সাইফুল’ের মধ্যে।
বিএনপি এই নির্বাচনে তার মূল প্রার্থীকে ত্যাগ করে বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন জানিয়েছে। পূর্বে বিএনপি ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের কনভেনার ছিলেন সাইফুল আলম নীরবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে তিনি পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে ফুটবল চিহ্ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাইফুল আলম নীরবকে এখন ‘বিএনপি বিদ্রোহী’ বলা হয়, কারণ তিনি পার্টির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত সাইফুল আলম খান মিলনও এই দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সমর্থিত সাইফুল হক মূল বিএনপি সমর্থন পেয়েছেন। নীরবের পূর্বে আওয়ামী লীগ শাসনের অধীনে দমনমূলক পদক্ষেপের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার স্বাধীনতার পথে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণসমাজত আন্দোলনের তাসলিমা আখতার, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের কল্লোল বানিক, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজালাল, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মমিনুল আমিন, আমজনতার দলের তারেক রহমান, জাতীয় দলের সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, জনতার দলের ফারিদ আহমেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশে মসাম্মত সালমা আক্তার, বাংলাদেশ কালচারাল লিবারেশন অ্যালায়েন্স (মুক্তিযোদ্ধা) এর মুন্তাসির মাহমুদ, এবং গণঅধিকার পার্ষদের আবুল বশার চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিটি প্রার্থী তাদের নিজস্ব প্রচারমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত, যেখানে রেলি, পোস্টার, দরজায় দরজা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘সাইফুল’দের দলগুলো রাস্তায় ভিড় জমিয়ে, ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য বিভিন্ন রূপে প্রচার চালাচ্ছে।
ভোটাররা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ‘সাইফুলের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, কারণ তিনজন প্রার্থীর নাম ও পরিচয় একই রকম হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে, বিশেষ করে বিএনপি কীভাবে তার ভিত্তি বজায় রাখতে পারবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
ফলাফল যদি সাইফুল হককে মেলে, তবে বিএনপি তার ঐতিহ্যবাহী সমর্থনভিত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবে এবং বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে নীরবের স্বাধীন প্রচার যদি সফল হয়, তবে এটি বিএনপি-ভিত্তিক ভোটারদের মধ্যে বিভাজনের ইঙ্গিত দিতে পারে। জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত মিলনের পারফরম্যান্সও ধর্মীয় ভোটার গোষ্ঠীর দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নাগাদ, সকল প্রার্থী শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং নির্বাচনী কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের জন্য সময়সূচি ও ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়।
এই নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলাফল ঢাকা-১২ আসনের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে, এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়েও প্রভাব ফেলবে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পার্টিগুলি তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।



