ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের আমির, ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ানবাজার ও বানানীতে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনী সমাবেশে দলীয় জয়লাভের শর্তে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী সংস্কার শুরু হবে বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ‘চাঁদাবাজমুক্ত’ করার লক্ষ্য তুলে ধরে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের কর্মীদেরও মাঠে নামিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করার পরিকল্পনা জানান।
কারওয়ানবাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের সমর্থনে বক্তৃতা দেন এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেবার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেকারত্বের বদলে যুবকদের সম্মানজনক কাজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না; যারা যুব সমাজকে এই পথে ধাবিত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদেরও সতর্ক করেন, ‘আপনি যদি রাজনীতিতে অংশ নেন, চাঁদাবাজি না করে, তবে আপনাকে চাঁদাবাজ বলা হবে না’ এমন বার্তা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের সমালোচনা করেন।
কৃষিপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ক্ষতি কমাতে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, পণ্য ঢাকায় পৌঁছানোর সময় দাম তিন-চার গুণে বাড়ে, তাই সরকারী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলা সুশৃঙ্খল করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান ৫ আগস্টের পর থেকে দলের কোনো প্রতিশোধমূলক কাজ না করার এবং মিথ্যা মামলা না করার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ শাসনকালে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দলটি কোনো প্রতিশোধমূলক কৌশল গ্রহণ করেনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি ভোটের পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দিয়ে সতর্ক করেন; তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের সময় মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া, হামলা ইত্যাদি ঘটনা ঘটছে এবং জনগণ এখনও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি কমিশনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথে চলতে হলে সব দলই তাদের কর্মসূচি বজায় রাখবে এবং জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোটের ফলাফল গ্রহণ করবে। তিনি দলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালু করার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার বাসের উদ্বোধনও মিরপুরে করেন, যা ভোটারদের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই ঘোষণাগুলি জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তারা ‘চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যকে মূল মন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। তার বক্তব্যে যুবকদের জন্য বেকার ভাতা না দিয়ে সম্মানজনক কাজের নিশ্চয়তা, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে তারা ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। জামায়াত-এ-ইসলামির এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



