নোয়া সেন্টিনেও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে ‘জন র্যাম্বো’ শিরোনামের প্রিক্যুয়েল ছবির শুটিং থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ থেকে শুরু হয়েছে। লায়ন্সগেট এই ছবির বিশ্বব্যাপী বিতরণ করবে এবং চলচ্চিত্রটি র্যাম্বো সিরিজের মূল চরিত্রের শৈশব ও প্রথম যুদ্ধের পূর্বের সময়কে আলোকিত করবে।
ফার্স্ট ব্লাড, ১৯৮২ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্রে সিলভেস্টার স্ট্যালোন র্যাম্বো চরিত্রে দর্শকের হৃদয় জয় করে, যা ডেভিড মোরেলের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। সেই ছবির সাফল্য পরবর্তীতে একাধিক সিক্যুয়েলকে জন্ম দেয়, সর্বশেষটি ২০১৯ সালের ‘র্যাম্বো: লাস্ট ব্লাড’।
ফিনল্যান্ডের পরিচালক জালমারি হেল্যান্ডার, ‘সিসু’ ও তার সিক্যুয়েলসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার পর এখন র্যাম্বো প্রিক্যুয়েল পরিচালনা করছেন। হেল্যান্ডারকে র্যাম্বোর মূলত্ব ও তার প্রভাবের প্রতি গভীর স্নেহ রয়েছে, যা তিনি নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করেছেন।
চিত্রনাট্য রোরি হেইনস ও সোহরাব নোশিরভানি রচনা করেছেন, যারা ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ সহ অন্যান্য বড় প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন। তাদের স্ক্রিপ্ট র্যাম্বোর শৈশবের কষ্ট, যুদ্ধের আগে তার মানসিক প্রস্তুতি এবং আত্মরক্ষার সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে গড়ে তুলেছে।
কাস্টে যুক্ত হয়েছে চীনা অভিনেতা ইয়াও (‘সিনার্স’), জেসন টোবিন (‘আ থাউজান্ড ব্লো’), কুইন্সি আইজাইয়া (‘উইনিং টাইম: দ্য রাইজ অফ দ্য লেকার্স ডাইনাস্টি’), জেফারসন হোয়াইট (‘ইয়েলোস্টোন’) এবং তায়মে থাপথিমথং (‘দ্য হোয়াইট লোটাস’)। এই বহুমুখী দল র্যাম্বোর জটিল চরিত্রকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
প্রযোজনা কাজের দায়িত্বে রয়েছে মিলেনিয়াম মিডিয়া, টেম্পলটন মিডিয়া এবং এজি-বিও। কেভিন কিং টেম্পলটন, লেস ওয়েলডন, জোনাথন ইউংগার, মাইকেল ডিস্কো এবং অ্যাঞ্জেলা রুসো-ওটস্টট প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন।
অতিরিক্তভাবে, অ্যান্থনি রুসো, জো রুসো, ট্রেভর শোর্ট, ডালাস সোনিয়ার এবং আমান্ডা প্রেসমাইক এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে প্রকল্পে যুক্ত আছেন। তাদের সমন্বয়ে ছবির উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে অগ্রসর হচ্ছে।
চিত্রটি ‘ফার্স্ট ব্লাড’ এর ঘটনার বহু বছর পূর্বের সময়কে চিত্রায়িত করবে, যেখানে র্যাম্বো ভিয়েতনাম যুদ্ধের আগে তার জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও আত্মরক্ষার পথে হাঁটছে। হেল্যান্ডার উল্লেখ করেছেন, এই গল্পটি র্যাম্বোর মূলত্বকে কাঁচা, বাস্তব এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
হেল্যান্ডার জানান, তিনি যখন একাদশ বছর বয়সে ‘ফার্স্ট ব্লাড’ দেখেছিলেন, তখনই র্যাম্বোর চরিত্র তার মনের গভীরে প্রোথিত হয়। সেই প্রভাবই তাকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং এখন তিনি র্যাম্বোর উত্সের গল্পকে সম্মানজনকভাবে পুনর্গঠন করতে চান।
‘ফার্স্ট ব্লাড’ বিশ্বব্যাপী ১২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে, আজকের মুদ্রায় তা প্রায় ৪১৭ মিলিয়ন ডলারের সমান, এবং র্যাম্বো সিরিজের পরবর্তী ছবিগুলোকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছে। নতুন প্রিক্যুয়েলটি এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের জন্য পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য রাখে।
লায়ন্সগেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা র্যাম্বো ভক্তদের পাশাপাশি নতুন দর্শকদেরও আকৃষ্ট করবে। ছবির প্রচার ও বিতরণ কৌশলটি গ্লোবাল বাজারে র্যাম্বোর স্থায়ী জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
শুটিংয়ের প্রধান স্থান হিসেবে ব্যাংককের আধুনিক শহুরে দৃশ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা র্যাম্বোর শৈশবের কঠিন পরিবেশকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করবে। স্থানীয় কর্মী ও প্রযুক্তি দল ছবির গুণগত মান নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাস্টের সমন্বয় নিয়ে ইতিমধ্যে শিল্পের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, এবং র্যাম্বো সিরিজের ভক্তরা নতুন ছবির জন্য উচ্চ প্রত্যাশা রাখছেন। চলচ্চিত্রটি র্যাম্বোর চরিত্রের মূলত্বকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে, তার মানবিক দিক ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে নতুন আলোতে উপস্থাপন করবে।
এই প্রিক্যুয়েলটি র্যাম্বোর গল্পের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে, দর্শকদেরকে অতীতের র্যাম্বোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, একই সঙ্গে আধুনিক সিনেমাটিক প্রযুক্তি ও বর্ণনাশৈলীর মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



