বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার রাতে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অধিকাংশ পেলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ছয় মাস বাড়বে—এই দাবি ভিত্তিহীন। বিবৃতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যকে লক্ষ্য করে।
ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছিল, গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এসব পোস্টে একটি ফটোকার্ডের ছবি যুক্ত ছিল, যা স্বাধীন টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’।
বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ফটোকার্ডের শিরোনাম ও পোস্টে উল্লিখিত দাবি প্রকৃত বক্তব্যের বিকৃতি। সরকার উল্লেখ করেছে, স্বাধীন টেলিভিশনের ফটোকার্ডে উল্লেখিত তথ্য কোনো সরকারি নীতি নয় এবং তা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের মূল বক্তব্যে তিনি গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন কোনো ধারণা নেই। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে, সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে।
অধ্যাপক রীয়াজের মতে, সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথে না নিয়ে মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য নির্বাচিত সদস্যদের আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নয়।
বিবৃতি আরও জোর দিয়ে বলেছে, অধ্যাপক রীয়াজ কখনোই বলেননি যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ‘গণপরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে। তার মন্তব্য কেবলমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বৈত ভূমিকা সম্পর্কে ছিল, যেখানে তারা সংসদ সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য উভয়ই হবেন।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’‑এর ৭ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অধিকাংশ পেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
অধিকন্তু, আদেশে বলা হয়েছে, এই পরিষদের কাজের সময়সীমা ১৮০ কর্মদিবস, যা নির্বাচনের পরপরই শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়াবে—এটি কোনো বিধানিক ভিত্তি রাখে না।
বাংলাদেশ সরকার এইসব ভিত্তিহীন দাবি দূর করার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে, সরকারী সূত্র ও অফিসিয়াল ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে তথ্য গ্রহণ করতে। ভুল তথ্যের দ্রুত বিস্তার গণভোটের স্বচ্ছতা ও বৈধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই সরকার সামাজিক মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচারকে অগ্রাধিকার দেবে।
গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং এই সময়ে তথ্যের সঠিকতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারী বিবৃতি অনুসারে, ভোটের ফলাফল কী হোক না কেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত দায়িত্ব এবং ১৮০ দিনের সংস্কার সময়সীমা সংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।
এই স্পষ্টীকরণে সরকার পুনরায় জোর দিয়েছে, কোনো ধরণের মেয়াদ বৃদ্ধি বা ক্ষমতা হস্তান্তরের শর্ত গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত নয়। ভবিষ্যতে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে সরকারী যোগাযোগ চ্যানেলগুলোকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হবে।



