ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্রের মতে, গাজা অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে ৭০,০০০ের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে বলে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে সামরিক বাহিনী স্বীকৃতি দিয়েছে। এই তথ্য ইজরায়েলীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইজরায়েল পূর্বে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মৃত্যুহারকে সন্দেহের চোখে দেখেছে, যদিও জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই সংখ্যা বাস্তবিক এবং নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই সংখ্যাকে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করে আসছে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে।
সংঘর্ষের সূচনা হয় ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে হামাসের নেতৃত্বাধীন আক্রমণ থেকে, যখন দক্ষিণ ইজরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে বন্দি করা হয়। এই আক্রমণ ইজরায়েলকে গাজার দিকে সামরিক অভিযান চালাতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইজরায়েল গাজার ওপর ব্যাপক বোমা হামলা এবং স্থলযুদ্ধ চালায়, যার ফলে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭১,৬৬০ের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারায়। এই সংখ্যা যুদ্ধের তীব্রতা এবং মানবিক সংকটের মাত্রা নির্দেশ করে।
১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গাজায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়, তবে সেই পর থেকে অন্তত ৪৯২ ফিলিস্তিনি মৃত্যুবরণ করেছে এবং চারজন ইজরায়েলি সৈনিক নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরেও সংঘাতের ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে।
ইজরায়েল সরকার সর্বদা হামাসের মৃত্যুহারকে অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ১,৬০০ যুদ্ধবিরোধী যোদ্ধা এবং মোট ২২,০০০ কমব্যাট্যান্টকে নির্মূল করেছে। এই তথ্য ইজরায়েলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংঘর্ষের পরিসরকে তুলে ধরে।
একজন উচ্চপদস্থ সূত্র ইজরায়েলীয় পত্রিকাগুলোর, যেমন হা’আরেটজ এবং টাইমস অফ ইজরায়েল, সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে জানান যে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মোট মৃত্যুহার মূলত সঠিক, যদিও কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন তা স্পষ্ট নয়। এই স্বীকৃতি পূর্বের অবস্থান থেকে একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী পূর্বে ধারণা করেছিল যে প্রতিটি যোদ্ধা নিহতের জন্য দুই থেকে তিনজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই অনুমান যুদ্ধের মানবিক প্রভাবকে মাপতে ব্যবহৃত হয়।
তবে সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই নতুন প্রতিবেদন তাদের সরকারি অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেমন জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিও, দ্বারা মানবিক সংকটের মূল্যায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ডেটা শরণার্থী সহায়তা এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
মৃত্যুহার স্বীকৃতির ফলে ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তের প্রসঙ্গে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, যদিও মৃত্যুর সঠিক গঠন—যোদ্ধা বনাম বেসামরিক—সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও অনুপস্থিত, ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই স্বীকৃতি গাজা সংঘর্ষের মানবিক ক্ষতির পরিমাণকে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



