দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ একমাত্র শুটার নিয়ে অংশ নেবে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবেন গত অলিম্পিকে অংশ নেওয়া শুটার রবিউল ইসলাম, যাঁর সঙ্গে কোচ শারমিন আক্তার থাকবেন। সরকার ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও শুটার ও গুলির পরিবহন নিশ্চিত করেছে।
শুটিং দলকে ভারতের ভ্রমণের অনুমোদন ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদনের পর শুটারদের সরঞ্জাম ও গুলি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।
তবে একক শুটার পাঠানোর পেছনে ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং শুটার সংকটের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস গুলশান শুটিং কমপ্লেক্সে জানিয়েছেন, মূল পরিকল্পনা ছিল তিনজন অলিম্পিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শুটারকে দল হিসেবে পাঠানো।
তিনজনের মধ্যে একজন, কামরুন নাহার কলি, বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত অবস্থায় আছেন। অন্যজন, সায়রা আরেফিন, ব্যক্তিগত কারণে ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি। ফলে পরিকল্পিত দলটি সম্পূর্ণ হয়নি।
আলেয়া ফেরদৌস উল্লেখ করেন, তিনজন শুটার হলেও দুইজন নারী এবং একজন পুরুষ ছিলেন, যা দলীয় ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য যথেষ্ট নয়। শুটিংয়ের দলীয় বিভাগে অন্তত তিনজনের উপস্থিতি প্রয়োজন, না হলে দলীয় প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়তে হয়।
বৃহত্তর দল পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, তা নিশ্চিত করা যায়নি। শুটারদের পারফরম্যান্স মানদণ্ডে না পৌঁছালে দল পাঠিয়ে কোনো লাভ হবে না, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন। বর্তমান পরিস্থিতি অন্য কোনো ফেডারেশনে দেখা যায় না, একের পর এক সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুটারদের শৃঙ্খলা বজায় না রাখার অভিযোগও উঠে এসেছে। কিছু শুটার ডরমিটরিতে থাকতে অস্বীকার করে, যারা থাকলেও প্রায়ই ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে রাতারাতি ফিরে আসে। এই ধরনের অনিয়ম ফেডারেশনের কাজের পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে।
আলেয়া ফেরদৌস ২২ বছরের বেশি সময় শুটিং ফেডারেশনে কাজ করার পর এ ধরনের বিশাল শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা প্রথম দেখেছেন। তিনি বলেন, শুটারদের মধ্যে আত্মশাসনের অভাব এবং দায়িত্ববোধের ঘাটতি রয়েছে, যা দলীয় সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
শুটিং পরিবেশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার উপস্থিতি। এসব বিষয়ের ফলে শুটারদের মনোভাব ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ নষ্ট হয়েছে, যা দেশের শুটিং উন্নয়নে বড় বাধা।
ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জি.এম. হায়দারও এই সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, শুটার সংকট সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। তিনি জোর দেন, শুটারদের প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফলতা অর্জন কঠিন হবে।
এই সব চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশ শুটার রবিউল ইসলামকে দেশের গর্ব হিসেবে সমর্থন জানিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফলাফল আনার আশা প্রকাশ করেছে। শুটার ও কোচের প্রস্তুতি, সরকারী অনুমোদন এবং ফেডারেশনের প্রচেষ্টা একত্রে এই একক প্রতিনিধিত্বকে সফল করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



