ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কভারেজের জন্য ভারত সফর করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য সরকার কোনো গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) জারি করবে না। তিনি যোগ করেন, নিরাপত্তা বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত হলে ভ্রমণের ওপর কোনো বাধা থাকবে না।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালে প্রায় একশ’ সাংবাদিক আইসিসি (আইসিসি) এক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেন। তবে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর প্রথমে সকলের এক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি পুনরায় এক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া চালু করে এবং বহু বাংলাদেশি সাংবাদিককে নতুন করে অনুমোদন প্রদান করে।
আজকের প্রশ্নের উত্তর দিতে সচিব মাহবুব উল আলম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন, আইসিসি যদি অনুমোদন প্রদান করে থাকে, তবে ভ্রমণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের নিজস্বভাবে নিতে হবে। সরকার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের জিও ইস্যু করা হবে না; নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে যাত্রা করা যাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করা হলে, সরকারী কোনো বাধা না থাকায় সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে ভারত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এই নীতিমালা সাংবাদিকদের স্বতন্ত্রভাবে পরিকল্পনা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, ক্রিকেট দলকে ভারত সফরে না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, নিরাপত্তা হুমকির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার কারণে এই বিষয়টি আলাদা করে পর্যালোচনা করা হয়।
সচিবের মতে, ক্রিকেট দলের ভ্রমণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং সাংবাদিকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দুটি স্বতন্ত্র বিষয়। একে অপরের সঙ্গে যুক্ত না করে, প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আইসিসি এক্রিডিটেশন পুনরায় প্রদান করার পর, সাংবাদিকদের জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। তাই, এখন তাদের একমাত্র কাজ হল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া।
মাহবুব উল আলমের এই মন্তব্যের পর, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংস্থা গুলো নিরাপত্তা বিষয়ক চূড়ান্ত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আইসিসি কর্তৃক প্রদত্ত এক্রিডিটেশনকে ভিত্তি করে, সরকারী কোনো বাধা না থাকায় ভারত সফরের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারে।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যে সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেবে না। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের স্বতন্ত্রভাবে নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ পরিবেশনে দেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ক্রীড়া সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি এক্রিডিটেশন পাওয়া সাংবাদিকদের জন্য সরকারী জিও জারি না করার সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার সুযোগ প্রদান করে। একই সঙ্গে, ক্রিকেট দলের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে আলাদা ভাবে নেওয়া হয়েছে, যা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা নীতি অনুসারে।
এই স্পষ্ট নির্দেশনা সাংবাদিক সম্প্রদায়কে আত্মবিশ্বাস দিয়ে, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কভারেজে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে, তা যথাযথভাবে জানানো হবে।



