নাটোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের নির্বাচনী মিছিলার সময় বৃহস্পতিবার বিকাল প্রায় ৫:৩০ টায় সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াস মাবিয়ার মোড়ে তিনজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিংড়া থানার ওসি এ.এস.এম. আব্দুন নূর জানান, ঘটনাটি মিছিলার সময়ই ঘটেছে এবং তৎকালীন উপস্থিত থাকা কিছু লোকের মধ্যে লাঠি-শক্তি ব্যবহার করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, তিনজনের মধ্যে একজনের কাঁধে আঘাত হয়েছে, তবে তা গুরুতর নয়; এক্স‑রে করলে ফ্র্যাকচার আছে কি না তা নিশ্চিত করা যাবে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল হক আনুর সমর্থকরা এই হামলার দায় দাউদার মাহমুদের ওপর আরোপ করেন। অন্যদিকে, দাউদার দলের সমর্থকরা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে পাল্টা অভিযোগ করেন যে বিএনপি দলের লোকজন তাদের নির্বাচনী প্রচার অফিসে ঢুকে ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেছে।
হামলায় আহত তিনজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা হলেন বিয়াস মাবিয়ার মোড়ের বাসিন্দা আমিন, সালাম এবং রোজিনা। তাদের মধ্যে আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাউদার মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন, “আমরা প্রচারণা চালাচ্ছিলাম, ছেলেপেলে মিছিল করছে। ওরা মিছিল করতে দেবে না। আমি গিয়ে কথা বলতে বলতেই, ওরা বাটাম লিয়ে অ্যাসে ম্যারলো।” তিনি জানান, ধানের শীষের প্রার্থী আনুর সমর্থক সৈয়দ, তৈয়ব, সবুজ ও হামদুলের নেতৃত্বে লাঠি-শক্তি নিয়ে তাদের কর্মী-সমর্থকরা তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
আনোয়ারুল হক আনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিরাজুল ইসলাম ফোনে জানান, “দাউদার মাহমুদের লোকজন আমাদের নির্বাচনি প্রচার অফিসে এসে ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করে। এরপর বিএনপি সমর্থিত লোকজন এক হয়ে তাদের প্রতিহত করে। এটাকে ওরা বলছে, হামলা করছে।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, দু’পক্ষের মধ্যে প্রচারণা চলাকালীন সম্পদ ও স্থান নিয়ে বিরোধ বাড়ে।
সিংড়া থানার ওসি নূর উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়ে গেছে।
নাটোরে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং এই ধরনের সংঘর্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। উভয় দলই নিজেদের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আসন্ন ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে এবং নির্বাচনী প্রচারকালে জনসমাগমের সময় সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে।



