২৯ জানুয়ারি বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় একটি গণজমায়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডিএসইউ) ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি দেশের পাঁচটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংঘের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে লক্ষ্য রাখে।
সাদিক কায়েম সমাবেশে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে জানান, যারা শেখ হাসিনার মতোই আচরণ করতে চায়, তাদেরকে একই রকম শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারকে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠানোর মতোই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যদি কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়।
কায়েমের মতে, ‘না’ ভোটের অর্থ হল ভারতের দালালদের সমর্থন করা, দিল্লির দালালদের পক্ষে দাঁড়ানো এবং স্বাধীন বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বন্দোবস্ত করা। তিনি এই অবস্থানকে দেশের স্বার্থের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে, এমন দলকে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবারো জাতীয় নেতাদের শহীদ করার পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বক্তা বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দিচ্ছেন, তবে একবারও ‘হ্যাঁ’ স্লোগান শোনেননি। কায়েম জোর দিয়ে বলেন, ‘না’ ভোটের পক্ষে দাঁড়ানো মানে হল শেখ হাসিনা, মোদি এবং তাদের ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রাষ্ট্রের মধ্যে রেখে দেওয়া।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই প্রজন্মের তরুণরা ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’ ভোটের দালালিত্বকে কোনো জায়গা দেবে না। এ কারণে, তিনি সিলেটের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান, যাতে গণভোটে অধিকাংশের সমর্থন পাওয়া যায়।
কায়েমের এই বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত কিছু তরুণ সক্রিয় সদস্যও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন এবং ভোটের দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিবাদী দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে এই রকম তীব্র মন্তব্য ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভোটের ফলাফল সরকারের বৈধতা ও নীতি দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সিলেটের এই গণজমায়েতে ডিএসইউ ভিপি সাদিক কায়েম ‘না’ ভোটের দলকে কঠোর শাস্তি দেবার হুঁশিয়ারি দিয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন।



