যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধানদের উদ্দেশে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের যৌথ চিঠি বৃহস্পতিবার পাঠানো হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ ত্বরিত তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে এশিয়া‑প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার গ্রেস মেংসহ অন্যান্য সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠির মূল দাবি হল, স্থগিতাদেশের ফলে প্রায় ১,৩৫,০০০ এর বেশি এশিয়া‑আমেরিকান ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারছেন না; বিশ্বজনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ন্যায়সঙ্গত নয়, এমন যুক্তি চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন সরকার ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। তালিকায় আফগানিস্তান, রাশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কুয়েত, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ইত্যাদি দেশ অন্তর্ভুক্ত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স পোস্টে জানিয়েছে, এই দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা আবেদন ‘পাবলিক চার্জ’ মানদণ্ডে না পারলে বাতিল করা হবে।
‘পাবলিক চার্জ’ মানদণ্ডের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তারা নির্ধারণ করেন যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে নিজের খরচে জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম কিনা। যদি কোনো আবেদনকারী সরকারি কল্যাণ বা অন্যান্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে বিবেচিত হয়, তবে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি সম্পর্কে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নীতি অনুসারে, নতুন অভিবাসীরা দেশের সম্পদে অতিরিক্ত বোঝা না হয়ে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ভিসা প্রদান করা হবে না। এই নীতি অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি কমাতে নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অধিকন্তু, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক পরিবার, ব্যবসা ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অপেক্ষায় থাকা মানুষদেরকে ‘সঠিক উপায়ে’ আসতে বলা হচ্ছে, তবে বাস্তবে ভিসা না পেয়ে তারা দেশে ফিরে আসতে পারছে না। এই পরিস্থিতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায়সঙ্গত নয়, এমন সমালোচনা চিঠিতে করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর অফিসে এই চিঠি পৌঁছানোর পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে, চিঠিতে উল্লেখিত উদ্বেগগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশাল, বিশেষ করে এশিয়া‑আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্য। ভিসা না পেয়ে বহু পরিবার তাদের ব্যবসা, শিক্ষা ও পারিবারিক পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে।
ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নীতি নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। যদি এই চিঠি কার্যকর হয়, তবে ভিসা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটতে পারে এবং প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকদের পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ ফিরে পেতে পারে। অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এই চিঠিকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে, যা আন্তর্জাতিক অভিবাসী নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায়ও স্থান পেয়েছে। অভিবাসী নীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বিশেষ করে ব্যবসা, মানবাধিকার সংস্থা ও কংগ্রেসের সদস্যরা এই বিষয়ে মতামত প্রকাশ করছেন।
সারসংক্ষেপে, ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি ভিসা স্থগিতাদেশের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। ভবিষ্যতে এই চিঠির ফলাফল কী হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



