যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্রিস্টাল ডান্ন বৃহস্পতিবার তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। ২০১৩ সালে ডেবিউ করে ১৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৫টি গোলের রেকর্ড রেখে তিনি দেশের সোনার যুগের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন।
ডান্ন ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৪ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উভয় টুর্নামেন্টে তিনি দলের আক্রমণ ও রক্ষণে সমানভাবে অবদান রাখার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।
ক্লাব স্তরে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনা কারেজের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এবং পোর্টল্যান্ড থর্নসের সঙ্গে ২০২২ সালে এনডব্লিউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপের ত্রয়ী জয় করেন। এই শিরোপা জয়গুলো তার দলীয় সাফল্যের মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
২০১৫ সালে ওয়াশিংটন স্পিরিটের হয়ে তিনি এনডব্লিউএসএল এমভিপি ও গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন, যা তার আক্রমণাত্মক দক্ষতার প্রমাণ। একই বছর তিনি লিগের শীর্ষ স্কোরার হিসেবেও স্বীকৃত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর ২০১৪ সালের ড্রাফটে ডান্নকে প্রথম নম্বরে নির্বাচন করা হয়। তার কলেজ ক্যারিয়ার তাকে পেশাদার দুনিয়ায় দ্রুত অগ্রসর হতে সহায়তা করে।
ইউরোপে তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল ২০১৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চেলসিতে খেলা, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। জানুয়ারি ২০২৫-এ প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ক্লাবে স্বাক্ষর করার পর এই মৌসুমে মাত্র একবার মাঠে নামার সুযোগ পান।
ডান্নের বহুমুখিতা তাকে স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার এবং পরে জাতীয় দলের বাম ব্যাক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম করে। যদিও বাম ব্যাক তার প্রাথমিক পছন্দের পজিশন না হলেও তিনি সেখানে দৃঢ় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
“আমি শান্তি ও গভীর সন্তুষ্টি নিয়ে এই খেলাটি ছেড়ে যাচ্ছি,” তিনি একটি বিবৃতিতে জানান। “আমি আমার ক্যারিয়ার জুড়ে কাজ করা অসাধারণ মানুষদের—সহকর্মী, কোচ, পরিবার ও বন্ধুদের—প্রতি কৃতজ্ঞ, এবং আমাদের ভাগ করা স্মৃতিগুলোকে আমি সর্বদা লালন করব।”
ডান্ন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, নতুন অধ্যায়ের জন্য উন্মুক্ত মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ফুটবলের বাইরে অন্য কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান বলে ইঙ্গিত দেন।
মেগান রাপিনো এবং অ্যালেক্স মরগানের সঙ্গে খেলতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার উপস্থিতি দলের সমন্বয় ও স্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
অধিকন্তু, ডান্ন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবলে প্রথম শ্বেতাঙ্গের বাইরে আসা কৃষ্ণাঙ্গ তারকাদের মধ্যে অন্যতম, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করেছে। তার ক্যারিয়ার তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অবসর গ্রহণের পরও ডান্নের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ইতিহাসে অম্লান থাকবে, এবং তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় রয়ে যাবে।



