19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল থাইল্যান্ডে জয়লাভের পর ঢাকায় উন্মুক্ত বাসে উদযাপন

বাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল থাইল্যান্ডে জয়লাভের পর ঢাকায় উন্মুক্ত বাসে উদযাপন

ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত ছাদযুক্ত বাসে রঙিন জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন দেখা গেল, যখন বাংলাদেশ নারী ফুতসাল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম SAFF নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিজয়ী হয়ে ফিরে এসেছে। দলটি দেশের পতাকা‑রঙের লাল‑সবুজ জার্সি পরিধান করে, ভিড়ের তালি ও চিৎকারের মাঝে শহরের রাস্তায় গর্বের মুহূর্ত উপভোগ করেছে।

এই চ্যাম্পিয়নশিপে মোট সাতটি দল অংশগ্রহণ করেছিল এবং প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে রাউন্ড‑রবিন ফরম্যাটে খেলেছে। বাংলাদেশ ছয়টি ম্যাচে মোট ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থান অর্জন করে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের থেকে চার পয়েন্টের পার্থক্য বজায় রাখে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি টেবিলে দলটির আধিপত্য স্পষ্ট করে, যা দেশের নারী ফুটবলের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাকে আরও শক্তিশালী করে।

এই শিরোপা অর্জন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক উত্থানের একটি নতুন মাইলফলক। পূর্বে ২০২২ ও ২০২৪ সালে ধারাবাহিকভাবে SAFF নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করা দলটি, এবার ফুতসাল শাখায়ও শীর্ষে উঠে, যা দেশের নারী ক্রীড়া নীতি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ফলাফলকে নির্দেশ করে। তাছাড়া, এই জয়টি দলকে ২০২৬ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপের জন্য ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জনের পথে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

দলটির ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন, যিনি ২০২২ ও ২০২৪ সালে SAFF নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে ১৪ গোলের শীর্ষে দাঁড়িয়েছেন। ছয়টি ম্যাচে এতো বেশি গোল করার মাধ্যমে তিনি নিজের এবং দলের আক্রমণাত্মক শক্তি উভয়ই প্রমাণ করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

টুর্নামেন্টের সময় বাংলাদেশ দল মোট ছয়টি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে, প্রতিটি ম্যাচে গড়ে দুই থেকে তিনটি গোলের পার্থক্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছে। যদিও প্রতিটি ম্যাচের নির্দিষ্ট স্কোর এখানে উল্লেখ করা হয়নি, তবে ১৬ পয়েন্টের সমষ্টি থেকে স্পষ্ট যে দলটি পাঁচটি জয় এবং একটি ড্র অর্জন করেছে, যা রাউন্ড‑রবিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহের মানদণ্ড।

ঢাকায় ফিরে আসার পর উন্মুক্ত বাসে উদযাপনটি শুধু খেলোয়াড়দের নয়, সাধারণ জনগণেরও অংশগ্রহণে রঙিন হয়ে উঠেছিল। বাসের চারপাশে ভিড়ের উল্লাস, ক্যামেরা ফ্ল্যাশ এবং দেশীয় গানের সুরে পরিবেশটি এক অনন্য উৎসবমুখর দৃশ্য তৈরি করেছিল। খেলোয়াড়রা বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে, হাততালি ও চিৎকারের সঙ্গে নিজেদের বিজয়কে গর্বের সাথে উপস্থাপন করছিল।

উদযাপনের সময় ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন দলের সাফল্যকে দেশের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য শুধু একটি ট্রফি নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নারী ফুতসালের সম্ভাবনা দেখায়।” তার এই মন্তব্য দলীয় আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের নারী ফুতসাল দলের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ফেডারেশনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে, ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম SAFF নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের বিজয় ক্রীড়া জগতে দেশের অবস্থানকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। উন্মুক্ত বাসে উদযাপনটি দেশের জনগণের এই সাফল্যের প্রতি গর্ব ও আনন্দের প্রকাশ, এবং ভবিষ্যতে নারী ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।

এই বিজয়কে কেন্দ্র করে দেশীয় মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে দলীয় কৌশল, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে সবকিছুর মূল কথা হল, বাংলাদেশ নারী ফুতসাল দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে, এবং এই সাফল্য দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments