19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদিল্লা হোসেন থাকুরগাঁও র্যালিতে বিএনপি-কে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন

দিল্লা হোসেন থাকুরগাঁও র্যালিতে বিএনপি-কে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন

থাকুরগাঁও সদর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খোচাবাড়ি হাই স্কুল মাঠে বিকালবেলা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে জামায়াত-ই-ইসলামের থাকুরগাঁও-১ প্রার্থী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন সাউথ ইউনিটের সহ-সচিব দিল্লা হোসেন, বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “জামায়াত‑ই‑ইসলাম ক্ষমা না চেয়ে ভোট চাইলে, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত”। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লা হোসেন র্যালিতে উপস্থিত ভিড়ের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বললেন, বিএনপি দুবার ক্ষমতায় আসলেও একবারও স্বাধীনভাবে তা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, “আপনারা দুবার শাসনে এসেছেন, তবে কখনো নিজের শক্তিতে শাসন করতে পারেননি। দুবারই জামায়াত‑ই‑ইসলামের সমর্থন, সহায়তা ও সহযোগিতা ছাড়া ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়নি”। এই কথায় তিনি বিএনপির অতীত জোটের ভূমিকা তুলে ধরতে চেয়েছেন।

দিল্লা হোসেন আরও বলেন, “যখন জামায়াত‑ই‑ইসলাম আপনার পাশে ছিল, তখন কি জামায়াতকে ‘রাজাকার’ বলা হতো? আজ জামায়াত আপনার সঙ্গে না থাকায়ই তাকে ‘রাজাকার’ বলে লেবেল করা হচ্ছে”। তিনি এটিকে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করে সমালোচনা করেন।

বিএনপির ক্ষমা চাওয়ার দাবি বদলে, দিল্লা হোসেন র্যালিতে উপস্থিত সমর্থকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের উচিত ক্ষমা চাওয়া নয়, বরং জনগণের কাছে অতিরিক্ত কর, জমি দখল ও টেন্ডার জালিয়াতির জন্য ক্ষমা চাওয়া”। তিনি অতিরিক্ত করের মাধ্যমে জনগণের ওপর আরোপিত বোঝা, জমি দখল এবং টেন্ডার জালিয়াতি উল্লেখ করে বলেন, এসব অভিযোগ না মেনে ভোটারদের বিশ্বাস অর্জন কঠিন হবে।

এদিকে তিনি র্যালিতে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের কথা তুলে ধরে জানান, তাদের বাড়িগুলো রাতে লক্ষ্যবস্তু করে চুরি ও লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং তারা নিঃশব্দে দমন ও হুমকির মুখে রয়েছে। এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি অতীতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আরোপিত নিপীড়নের উদাহরণ তুলে ধরতে চান।

দিল্লা হোসেন ভোটারদেরকে “নীরব ব্যালট বিপ্লব” করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা যদি সত্যিকারের পরিবর্তন চান, তবে গোপনে আপনার ভোট দিয়ে এই আন্দোলনকে শক্তি দিন”। তিনি ভোটারদেরকে ভোটের মাধ্যমে নীরব প্রতিবাদ করার পরামর্শ দেন, যা তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তিনি অতীত সরকারের ‘রাজাকার’ শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহারকে সমালোচনা করে বলেন, “পূর্বের সরকার মুক্তিযুদ্ধের কথা বারবার ব্যবহার করে, ‘রাজাকার’ শব্দটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তার পতনের কারণ হয়েছে”। এই মন্তব্যে তিনি রাজনৈতিক ভাষার অপব্যবহারকে সমালোচনা করছেন।

দিল্লা হোসেন আরও যোগ করেন, “যারা এখনো নির্বাচনের আগে ‘রাজাকার’ শব্দটি পুনরায় ব্যবহার করছেন, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে”। তিনি এই ধরনের রেটোরিককে ভোটারদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

র্যালির শেষে তিনি ভোটারদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন এবং বললেন, “আপনার ভোটই আপনার কণ্ঠস্বর, তাই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করুন”। তিনি ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের আহ্বান জানান।

দিল্লা হোসেনের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে থাকুরগাঁও অঞ্চলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, বিএনপি ও জামায়াতের জোটের ইতিহাস পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন এবং ভোটারদের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। র্যালির পরবর্তী দিনগুলোতে উভয় দলই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন প্রচারণা চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই র্যালি এবং দিল্লা হোসেনের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে ক্ষমা, দায়িত্ব ও ভোটারদের স্বচ্ছ ভোটের গুরুত্ব পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় উভয় দলের কৌশল ও রেটোরিকের পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments