অক্টোবর মাসে অ্যাপ স্টোরে শীর্ষে উঠে প্রথম দিনেই ১০০,০০০ ডাউনলোড পেয়ে বিশাল সাড়া জাগানো ওপেনএআইর ভিডিও‑জেনারেশন অ্যাপ সোরা, এখন ডাউনলোড ও ব্যবহারকারীর ব্যয় উভয়ই হ্রাসের মুখে।
ইনভাইট‑অনলি মডেলে চালু হওয়া সোরা, প্রথম দিনে ১০০,০০০ ইনস্টল পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরে শীর্ষস্থান দখল করে। একই সময়ে এটি ১ মিলিয়ন ডাউনলোডের মাইলফলক চ্যাটজিপিটি‑এর তুলনায় দ্রুত অতিক্রম করে, যা তার প্রাথমিক জনপ্রিয়তা নির্দেশ করে।
অ্যাপটি শুধুমাত্র iOS‑এ উপলব্ধ ছিল এবং ব্যবহারকারীর আমন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সাফল্য আরও চিত্তাকর্ষক। তবে এই উত্থান পরের কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে।
বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা Appfigures‑এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সোরার ডাউনলোডে ৩২% মাস‑অন‑মাস হ্রাস দেখা যায়। ছুটির মৌসুমে সাধারণত অ্যাপের ডাউনলোড বাড়ে, তাই এই পতন উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অবস্থা আরও খারাপ হয়; ডাউনলোডে ৪৫% হ্রাস পেয়ে মোট ইনস্টল সংখ্যা ১.২ মিলিয়নে নেমে আসে। একই সময়ে ব্যবহারকারীর ব্যয়ও ৩২% কমে যায়।
সোরা অ্যাপের মোট ব্যয় এখন পর্যন্ত প্রায় ১.৪ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১.১ মিলিয়ন ডলার সবচেয়ে বড় অংশ। জাপান, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডের ব্যবহারকারীরাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় করেছে।
এই মাসে অ্যাপের মধ্যে ব্যয় ৩৬৭,০০০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে।
সোরা ব্যবহারকারীদের টেক্সট প্রম্পটের মাধ্যমে AI‑চালিত ভিডিও তৈরি করার সুযোগ দেয়। বিশেষত্ব হল ব্যবহারকারী নিজে ও বন্ধুদেরকে ভিডিওর প্রধান চরিত্র হিসেবে যুক্ত করতে পারে, এবং অন্য ব্যবহারকারীরা শেয়ার করা ভিডিওকে পুনরায় মিক্স করে নিজস্ব রূপ দিতে পারে। সাউন্ড ইফেক্ট, সঙ্গীত ও ডায়ালগ যোগ করে দৃশ্য সম্পূর্ণ করা যায়।
iOS এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত সোরা মোট ৯.৬ মিলিয়ন ডাউনলোড পেয়েছে, যা তার বিস্তৃত পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয়।
ওপেনএআই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, এবং তৎক্ষণাত্ কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক উন্মাদনা কমে যাওয়ার পেছনে সম্ভবত ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার পার্থক্য, পাশাপাশি ছুটির সময়ে নতুন স্মার্টফোনের উপহার পাওয়া সত্ত্বেও অ্যাপের নতুনত্বের অভাব ভূমিকা রাখে।
তবুও সোরা ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে AI‑এর নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে; ভবিষ্যতে সৃজনশীল কন্টেন্ট উৎপাদন, মার্কেটিং ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারী ধরে রাখতে ফিচার আপডেট ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।



