দীঘিনালা জোনে ১৯ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র মো. মুরাদ হোসেনের নিজস্ব অপহরণ নাটক প্রকাশে পুলিশ ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে উদ্ধার করে। ছাত্রটি মোটরসাইকেল ও আইফোন কেনার উদ্দেশ্যে নিজেরই অপহরণ ঘটিয়ে ফাঁসির দাবি করেছিল।
মুরাদ হোসেন রাঙামাটি জেলার সাজেক এলাকার বাঘাইহাট গ্রাম থেকে আসেন। তিনি স্থানীয় কলেজে ভর্তি এবং প্রায় সাড়ে আটটায় কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হন। পথে ফোনে পরিবারের কেউ জানায় যে মুরাদকে অজানা লোকেরা অপহরণ করেছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান চালায়, তবে কোনো সূত্র না পেয়ে উদ্বেগ বাড়ে। সন্ধ্যার দিকে পরিবারকে জানায় যে মুরাদের অবস্থান অজানা, ফলে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাহায্য চায়। প্রথমে তারা দীঘিনালা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করে, পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের সহায়তা নেয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা দিকনির্দেশনা ভিত্তিকভাবে পুলিশ দলকে নির্দেশ দেয়। দীঘিনালা থানা ওসি ইকবাল বাহার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ছোট মেরুং এলাকায় অভিযান চালায়। সেসব অনুসন্ধানের পর মুরাদ হোসেনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর মুরাদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে বলা হয়, তিনি স্বীকার করেন যে মোটরসাইকেল ও আইফোন কেনার জন্য নিজেরই অপহরণ নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে টাকা সংগ্রহের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত ছাত্রকে পরে তার পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। পরিবার সদস্যরা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং মুরাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপহরণ নাটক সাজানোর জন্য মুরাদ হোসেনকে আইনি দায়ের আওতায় আনা হবে বলে ওসি ইকবাল বাহার জানান। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তিনি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অবৈধ মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরাদ হোসেনের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে তার নিজের ইচ্ছায় পরিচালিত হয়। তার এই কাজের ফলে পরিবার ও সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এখনো তার সহকর্মী বা অন্য কোনো সহায়ক আছে কিনা তা যাচাই করছে।
অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনৈতিক উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মুরাদ হোসেনকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত তার অপরাধের প্রকৃতি, মুক্তিপণ দাবি এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে যথোপযুক্ত শাস্তি নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



