চট্টগ্রামের নিউ মোরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (NCT) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তি নিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা রিট পিটিশনকে আজ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারক নাকচ করে উচ্চ আদালতের রায়কে কার্যকরীভাবে নিশ্চিত করেছেন। বিচারক মি. রেজাউল হক, আপিলেটিভ ডিভিশনের চেম্বার জাস্টিস, বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের দায়ের পিটিশনের ওপর কোনো আদেশ দেননি, তবে ফোরামকে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল আনিক আর হক উল্লেখ করেন যে, চেম্বার জাস্টিসের আদেশের ফলে সরকার DP World‑এর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করার কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উচ্চ আদালতের রায় কার্যত বজায় রাখা হয়েছে, ফলে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, পিটিশনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. অন্বর হোসেন দাবি করেন যে, বিষয়টি এখনও সাব‑জিজিটে রয়েছে এবং সরকার এখনও চুক্তি সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, উচ্চ আদালতের রায়ের পরেও চুক্তি কার্যকর করার জন্য অতিরিক্ত আইনি অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়ে বিচারক জাফর আহমেদ রায় দেন যে, পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) অথরিটি ও DP World-এর মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অফ অ্যান্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুবাই সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল এবং আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন যে, MoU‑টি ২০১৭ সালের প্রোকিউরমেন্ট পলিসি অনুসারে সরাসরি নির্বাচন বা টেন্ডারিং উভয়ই অনুমোদন করে।
আদালত আরও স্পষ্ট করেন যে, মামলায় মূল আইনটি চ্যালেঞ্জ করা হয়নি; বরং চুক্তি প্রক্রিয়ার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া, পিটিশনটি সময়ের আগে দায়ের করা হয়েছে বলে রায় দেওয়া হয়, কারণ এখনও কোনো ওয়ার্ক অর্ডার জারি হয়নি।
DP World‑এর সঙ্গে চুক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে টার্মিনালের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, লোডিং‑আনলোডিং সময় কমবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ার ফলে বন্দর-সংলগ্ন লজিস্টিক্স শিল্পে নতুন ব্যবসা সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, DP World‑এর মতো বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক্স গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে শক্তিশালী করবে এবং রপ্তানি‑আমদানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। তবে, চুক্তি বাস্তবায়নের আগে আইনি অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য আপিল প্রক্রিয়া ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধিকন্তু, সরকার যদি চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে বন্দর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন ও প্রযুক্তি সরবরাহে ত্বরান্বিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে সমর্থন করবে। অন্যদিকে, আইনি বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে প্রকল্পের সময়সূচি পিছিয়ে পড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা ক্ষুন্ন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জাস্টিসের রায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করে DP World‑এর সঙ্গে NCT চুক্তি চালু করার আইনি পথ পরিষ্কার করেছে, তবে বিষয়টি এখনও সাব‑জিজিটে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আপিলের সম্ভাবনা ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বজায় রাখবে। সরকারকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বন্দর উন্নয়নের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা সময়মতো অর্জিত হয়।



