কনকর্ড মিউজিক গ্রুপ এবং ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের নেতৃত্বে গঠিত একটি সঙ্গীত প্রকাশক গোষ্ঠী অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ২০,০০০টিরও বেশি সুর, শীট মিউজিক, গানের লিরিক্স এবং সঙ্গীত রচনার অবৈধ ডাউনলোডের অভিযোগে ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে দাখিল করা হয়েছে এবং প্রযুক্তি শিল্পে বড় ধরনের কপিরাইট বিরোধের সূচনা নির্দেশ করে।
প্রকাশক গোষ্ঠী জানিয়েছে যে তারা অ্যানথ্রপিকের সিস্টেমে এই কাজগুলো অননুমোদিতভাবে ডাউনলোড করা হয়েছে বলে সন্দেহ করে। শীট মিউজিক, গানের লিরিক্স এবং সম্পূর্ণ সঙ্গীত রচনার বিশাল ডাটাবেসকে টরেন্ট সাইট থেকে সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
ক্ষতিপূরণ দাবির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নন-ক্লাস অ্যাকশন কপিরাইট মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় হিসেবে বিবেচিত। প্রকাশকরা উল্লেখ করেছে যে এই পরিমাণের মামলা সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হতে পারে।
এই মামলা একই আইনি দল দ্বারা দায়ের করা হয়েছে, যারা পূর্বে বার্টজ বনাম অ্যানথ্রপিক মামলায় লেখকদের পক্ষ থেকে কাজ করেছেন। সেই মামলায় লেখকগণ অ্যানথ্রপিককে তাদের কপিরাইটেড কাজ ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
বিচারক উইলিয়াম আলসাপের রায়ে বলা হয়েছিল যে কপিরাইটেড বিষয়বস্তু ব্যবহার করে মডেল প্রশিক্ষণ করা আইনগত, তবে সেই বিষয়বস্তুকে অবৈধভাবে ডাউনলোড করা নিষিদ্ধ। এই রায়টি অ্যানথ্রপিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক নির্দেশ করে।
বার্টজ মামলায় অ্যানথ্রপিককে ১.৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৫,০০,০০০ কপিরাইটেড কাজের জন্য লেখকগণ প্রায় ৩,০০০ ডলার করে পেয়েছেন। যদিও এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, তবু ১৮৩ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন থাকা অ্যানথ্রপিকের জন্য তা ধ্বংসাত্মক নয়।
প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত প্রকাশকরা অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি কপিরাইটেড কাজের ব্যবহার নিয়ে মামলা দায়ের করেছিল। তবে বার্টজ মামলার ডিসকভারি প্রক্রিয়ায় তারা আরও হাজার হাজার কাজের অবৈধ ডাউনলোডের প্রমাণ পেয়েছেন।
প্রকাশকরা মূল মামলায় এই নতুন তথ্য যুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তবে অক্টোবর মাসে আদালত তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। আদালত উল্লেখ করেছে যে তারা পূর্বে পায়রেসি সংক্রান্ত অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করেনি।
এই প্রত্যাখ্যানের পর প্রকাশকরা একটি পৃথক মামলা দায়ের করে, যেখানে অ্যানথ্রপিকের সিইও ডারিও আমোডেই এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেনজামিন মানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশকরা অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব দাবি যে কোম্পানি এআই নিরাপত্তা ও গবেষণার উপর কেন্দ্রীভূত, তা মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে। তারা যুক্তি দেয় যে কোম্পানির মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা প্রকৃতপক্ষে অবৈধ টরেন্টিংয়ের উপর নির্ভরশীল।
এই মামলাটি কপিরাইট আইন ও এআই প্রশিক্ষণ ডেটার ব্যবহারের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। অ্যানথ্রপিকের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং এআই শিল্পের নিয়মাবলী এই রায়ের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।
মামলাটি এখনও চলমান, এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় কপিরাইটধারী শিল্প ও এআই ডেভেলপারদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



