বিবিসি ঘোষণা করেছে যে বিশ্বকাপের সময় মাইকা রিচার্ডসের মতো বিশিষ্ট পন্ডিটদের প্রতিদ্বন্দ্বী পডকাস্টে কাজের জন্য লাইসেন্স ফি প্রদান করা হবে না। এই সিদ্ধান্তটি খরচ সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, এবং মূলত বিবিসির স্যালফোর্ড স্টুডিও থেকে টুর্নামেন্টের অধিকাংশ কভারেজ পরিচালিত হবে।
বিশ্বকাপের প্রোগ্রামিং স্যালফোর্ডে কেন্দ্রীভূত হবে, যেখানে রিচার্ডসকে প্রধান বিশ্লেষক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি একই সঙ্গে গ্যারি লাইনকারের নেতৃত্বে নিউ ইয়র্কে উৎপাদিত “দ্য রেস্ট ইজ ফুটবল” পডকাস্টে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইউরো ২০২৪-এ লাইনকার, রিচার্ডস এবং অ্যালান শিয়ারার একসঙ্গে বার্লিনে রেকর্ড করা এপিসোডগুলোকে স্মরণীয় করা হয়। তবে লাইনকারের গত বছর বিবিসি ত্যাগ এবং বিবিসির নিজস্ব স্টুডিওতে কাজ করার সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের সময় একসাথে শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পডকাস্টের উৎপাদন মান বাড়াতে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত মাসে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তি অনুযায়ী নেটফ্লিক্স পডকাস্টটি তার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করবে এবং এর ফলে শুটিং মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রত্যাশিত।
লাইনকারের প্রোডাকশন হাউস গোলহ্যাঙ্গার এবং নেটফ্লিক্সের চুক্তিতে বিশ্বকাপের সময় ৪০টিরও বেশি ভিডিও পডকাস্ট তৈরি করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি বড় নামের অতিথিদের বেশি সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, ফলে পডকাস্টের আকর্ষণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্যারি লাইনকার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে নেটফ্লিক্সের নিউ ইয়র্ক স্টুডিওতে উপস্থিত থাকবেন, এবং অন্যান্য পন্ডিটরা তাদের সময়সূচি অনুযায়ী সেখানে যোগ দিতে পারবেন। এই ব্যবস্থা পডকাস্টের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
বিবিসি পন্ডিটদেরকে বিশ্বকাপের সময় অন্য মিডিয়ায় কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে, তবে তার জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে না। ফলে রিচার্ডসের ভ্রমণ ও উৎপাদন খরচ নেটফ্লিক্স বা গোলহ্যাঙ্গারকে বহন করতে হবে।
অ্যালান শিয়ারার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সহ-কমেন্টেটর হিসেবে কাজ করবেন, যা তাকে লাইনকারের সঙ্গে সরাসরি পডকাস্টে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। শিয়ারারের এই দায়িত্ব বিবিসির আন্তর্জাতিক কভারেজকে সমৃদ্ধ করবে।
বিবিসির “ম্যাচ অব দ্য ডে” উপস্থাপকরা তাদের নিয়মিত শো চালিয়ে যাবে, তবে পন্ডিটদের অতিরিক্ত মিডিয়া কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় এবং শুটিং স্থান সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বাড়বে। এই নীতি ভবিষ্যতে পন্ডিটদের বহুমুখী কাজের সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে।



