শেরপুরের ঝিনাইগাটি ইউনিটের যুবদল যৌথ সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলামকে জামাত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর নিহত হয়েছে বলে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে দিসমিসল্যাবের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
২৯ ডিসেম্বর একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘Daliea Rahman’ একটি ভিডিও পোস্ট করে শিরোনামে লিখে থাকে, “ঝিনাইগাটি, শেরপুরের যুবদল যৌথ সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম জামাতের আক্রমণে মারা গেছেন।” পোস্টটি দ্রুতই ১৫,০০০ের বেশি ভিউ এবং ১০০টিরও বেশি শেয়ার পায়।
একই সময়ে একই ধরনের গুজব বহু অন্যান্য ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজ থেকে পুনরায় শেয়ার করা হয়, যা গুজবের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে।
স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদকও চ্যানেলের অফিসিয়াল পেজে একই তথ্য প্রকাশ করে, যেখানে সাইফুলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
দিসমিসল্যাবের তদন্তকর্মীরা শেরপুরের নিউজ২৪ করেসপন্ডেন্ট জুবাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানেন, সাইফুল ইসলাম জামাত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত হলেও তার কোনো মৃত্যু ঘটেনি।
তদুপরি, সাইফুল নিজেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ ভিডিওতে উপস্থিত হয়ে গুজবের সত্যতা প্রত্যাখ্যান করেন।
লাইভে তিনি জানান, কিছু লোক তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ তিনি বেঁচে আছেন এবং এমন কোনো খবরের উপর বিশ্বাস না রাখতে সবাইকে অনুরোধ করেন।
দিসমিসল্যাব সরাসরি সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করে যে তিনি নিজের ফেসবুক থেকে লাইভ গিয়ে মিথ্যা খবর দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল জামাত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, যা শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হিংসাত্মক মুখোমুখি হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। এই সংঘর্ষে সাইফুলসহ কয়েকজন আহত হয়, তবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যায়।
মৃত্যুর গুজবের দ্রুত বিস্তার স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তেজিত করতে পারে, তাই সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার হয়। দিসমিসল্যাবের তদন্ত দেখায় যে, গুজবের মূল উৎস ও তার প্রভাব বিশ্লেষণ করে দ্রুত সংশোধন করা সম্ভব।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং রাজনৈতিক গুজবের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়।



