স্যান্ডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে মেকন ব্লেয়ার পরিচালিত ‘দ্য শিটহেডস’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবিটি থ্রিলার‑কমেডি ধারার মিশ্রণ, যার শিরোনাম প্রথম দেখাতেই কিছুটা অস্বস্তিকর প্রভাব ফেলে। উৎসবে উপস্থিত দর্শক ও সমালোচকরা প্রথমে ছবির টোন ও চরিত্রের পারস্পরিক ক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দেন।
ব্লেয়ার নয় বছর আগে ‘I Don’t Feel at Home in This World Anymore’ ছবির মাধ্যমে স্যান্ডান্সের গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জিতেছিলেন। ঐ চলচ্চিত্রটি ফেস্টিভ্যালে প্রশংসা পেয়ে পরে নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হয়, তবে দর্শকের মনোযোগের কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে না থেকে যায়।
সেই সময়ের পর ব্লেয়ার ২০২৩ সালে ‘The Toxic Avenger’ ছবিতে প্রযোজনা দায়িত্বে ছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন দিক যোগ করে। এই কাজের পর তিনি আবার স্যান্ডান্সে ফিরে আসেন, এবার ‘দ্য শিটহেডস’ নিয়ে, যা টোনের দিক থেকে পূর্বের কাজের তুলনায় আরও অপ্রত্যাশিত বলে বিবেচিত।
‘দ্য শিটহেডস’ ছবির মূল কাহিনী দুজন অপ্রত্যাশিত সঙ্গীর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ও’শিয়া জ্যাকসন জুনিয়র ডেভিস চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পার্ট‑টাইম কাজ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত তরুণদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিবহন করেন এবং যাত্রার সময় তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। ডেভিসের চরিত্রটি ধর্মপ্রাণ, সদয় এবং কিছুটা অদক্ষ, যা তাকে গল্পের কেন্দ্রীয় বিন্দুতে রাখে।
ডেভিসের নতুন সঙ্গী মার্কের ভূমিকায় ডেভ ফ্রাঙ্কো উপস্থিত আছেন, যিনি মাদকাসক্ত এবং অলস স্বভাবের চরিত্রে অ্যান্টিক এনার্জি নিয়ে অভিনয় করেছেন। দুজনের পারস্পরিক সম্পর্ককে অদ্ভুত জোড়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; ডেভিসের গম্ভীরতা ও মার্কের রূঢ়তা একে অপরের বিপরীত ধারায় কাজ করে। তবে প্রথমে এই দুই চরিত্রের মধ্যে প্রত্যাশিত রসিকতা ও সাদৃশ্য সম্পূর্ণভাবে ফুটে ওঠে না।
চিত্রে মেসন থেমস শেরিডান নামের এক ধনী ও অনিয়ন্ত্রিত কিশোরকে অভিনয় করেছেন, যাকে প্রথম ক্লায়েন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শেরিডান চরিত্রটি প্রথমে সাধারণ ধনী কিশোরের ছাপ দেয়, তবে তার আচরণে অপ্রত্যাশিত রূপান্তর দেখা যায়। এছাড়া কিয়ারনান শিপকা, পিটার ডিঙ্কলেজ এবং নিকোলাস ব্রাউনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা ছবির চরিত্রগত বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তুলেছে।
চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট, যা উৎসবের প্রিমিয়ার শোয়ের জন্য উপযুক্ত সময়সীমা। প্রথম প্রায় বিশ মিনিটের অংশটি ধীর গতি ও অপ্রস্তুত এনার্জি নিয়ে শুরু হয়, ফলে দর্শকরা কিছুটা বিরক্তি অনুভব করতে পারেন। তবে সময়ের সাথে সাথে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া ও গল্পের অগ্রগতি ধীরে ধীরে শক্তি পায় এবং রসিকতা উন্মোচিত হয়।
সার্বিকভাবে ‘দ্য শিটহেডস’ প্রথম দৃষ্টিতে যে অস্বস্তিকর ছাপ দেয়, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হয়ে যায়। ছবির টোনের অস্থিরতা ও চরিত্রের অদ্ভুত সংমিশ্রণ শেষ পর্যন্ত একটি আকর্ষণীয় রোড ট্রিপের রূপ নেয়, যা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। স্যান্ডান্সে এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারটি ব্লেয়ারের সৃজনশীল দিকের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।



