অ্যাপল এই সপ্তাহে সর্বশেষ iPhone এবং iPad মডেলের কিছু সংস্করণে একটি নতুন গোপনীয়তা ফিচার চালু করেছে, যা সেলুলার ক্যারিয়ারগুলোকে ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান তথ্য সরবরাহের মাত্রা সীমাবদ্ধ করে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আইন প্রয়োগকারী, গোপন তথ্য সংগ্রাহক এবং দুষ্ট হ্যাকারদের থেকে লোকেশন ডেটা রক্ষা করা।
ফিচারটি সক্রিয় হলে, ফোন ও সেলুলার‑সক্ষম iPad গুলো গ্রাহকের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র সাধারণ পাড়া বা এলাকার তথ্য পাঠায়, সুনির্দিষ্ট রাস্তার ঠিকানা নয়। অ্যাপল দাবি করে, এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়ক, কারণ ক্যারিয়ারগুলো এখন ততটা সুনির্দিষ্ট ট্র্যাকিং করতে পারবে না।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিবর্তন অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে বা জরুরি কলের সময় প্রথম সাড়া দাতাদেরকে পাঠানো অবস্থান তথ্যের সঠিকতা প্রভাবিত করে না। ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে বা জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগের সময় এখনও সঠিক অবস্থান পেতে সক্ষম থাকবে।
এই ফিচারটি iPhone Air, iPhone 16e এবং iPad Pro (M5) Wi‑Fi + Cellular মডেলগুলোতে iOS 26.3 সংস্করণে সমর্থিত। বর্তমানে এটি কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সক্রিয়, যার মধ্যে জার্মানির টেলিকম, থাইল্যান্ডের AIS ও ট্রু, যুক্তরাজ্যের EE ও BT, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বুস্ট মোবাইল অন্তর্ভুক্ত।
অ্যাপল এই ফিচার চালুর পেছনের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, এবং ইমেইল মাধ্যমে যোগাযোগ করা স্পোকসপারও কোনো মন্তব্য দিতে অস্বীকার করেছে। তবে এই সময়ে সেলুলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লোকেশন ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা নজরদারি উদ্বেগকে এই পদক্ষেপের পটভূমি হিসেবে দেখা যায়।
বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে ক্যারিয়ারদের থেকে রিয়েল‑টাইম লোকেশন তথ্য চায়, অথবা ব্যক্তির গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে চায়। একই সঙ্গে হ্যাকার গ্রুপগুলোও ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল ডেটা চুরি করার চেষ্টা করে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেলিকম অপারেটর, যেমন AT&T এবং Verizon, চীনা সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ “সল্ট টাইফুন” এর ধারাবাহিক আক্রমণের শিকার হয়েছে। এই হ্যাকাররা উচ্চপদস্থ আমেরিকান কর্মকর্তার কল লগ এবং মেসেজ সংগ্রহের লক্ষ্যে নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করেছিল।
এ ধরনের আক্রমণ এবং দীর্ঘদিনের সেলুলার নেটওয়ার্কের দুর্বলতা বিশ্বব্যাপী নজরদারি বিক্রেতাদেরকে যেকোনো স্থানে ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করার সুযোগ দিয়েছে। ক্যারিয়ারগুলো যদিও আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অ্যাপলের নতুন ফিচার এই প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার একটি প্রযুক্তিগত স্তর যোগ করে। ক্যারিয়ারগুলোকে সীমিত তথ্য প্রদান করে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমে এবং অননুমোদিত ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সেলুলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লোকেশন ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি যদি আরও সীমাবদ্ধ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় গোপনীয়তা লঙ্ঘন ঘটতে পারে। অ্যাপলের এই পদক্ষেপটি গোপনীয়তা সুরক্ষার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।
ভবিষ্যতে এই ফিচারটি যদি অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতা এবং ক্যারিয়ারগুলো গ্রহণ করে, তবে গ্লোবাল মোবাইল গোপনীয়তা মানদণ্ডে পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যবহারকারীরা তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে শেয়ার করা তথ্যের উপর অধিক নিয়ন্ত্রণ পাবে, যা ডিজিটাল জীবনের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে।



