সঙ্গীত ও অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে, ব্যবহারকারীরা এখন গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের পডকাস্ট, প্লেলিস্ট এবং অডিওবুক সর্বোচ্চ দশজনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন। এই ফিচারটি আগস্টে চালু হওয়া মেসেজিং সেবার পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন চ্যাটে সর্বোচ্চ দশজন পর্যন্ত সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, এবং প্রতিটি সদস্যকে একই সময়ে শেয়ার করা কন্টেন্টে মন্তব্য বা রিয়্যাকশন করার সুযোগ থাকবে। ব্যবহারকারী শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে চ্যাট শুরু করতে পারবেন, যাদের সঙ্গে তারা পূর্বে কোনো কন্টেন্ট শেয়ার করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি দুইজন ব্যবহারকারী কোনো যৌথ প্লেলিস্ট তৈরি করে থাকে অথবা একসাথে জ্যাম বা ব্লেন্ড ফিচার ব্যবহার করে থাকে, তবে তারা এখন সরাসরি চ্যাটের মাধ্যমে কথোপকথন চালু করতে পারবে। এই শর্তটি নিশ্চিত করে যে, চ্যাটের অংশগ্রহণকারীরা ইতিমধ্যে একে অপরের সঙ্গীত স্বাদ সম্পর্কে পরিচিত।
স্পটিফাইয়ের এই পদক্ষেপটি তার অ্যাপকে আরও সামাজিক করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। বছরের পর বছর ধরে কোম্পানি বিভিন্ন সামাজিক উপাদান যুক্ত করেছে, যেমন পডকাস্টে মন্তব্যের সুবিধা, অন্য ব্যবহারকারীর প্রোফাইল অনুসরণ করা এবং তাদের শোনার তালিকা দেখা।
পূর্বে স্পটিফাই ব্যবহারকারীদেরকে অ্যাপের বাইরে কন্টেন্ট শেয়ার করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ মেসেজিং ফিচারটি মূলত সেই শেয়ারিংকে সম্পূরক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা এখন সরাসরি অ্যাপের মধ্যে কথোপকথন চালিয়ে তাদের পছন্দের ট্র্যাক বা এপিসোড নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।
নিরাপত্তা দিক থেকে স্পটিফাই জানিয়েছে যে, সব মেসেজ সার্ভারে সংরক্ষিত অবস্থায় এবং ট্রান্সমিশন চলাকালীন এনক্রিপ্টেড থাকবে। তবে এই এনক্রিপশনটি এন্ড-টু-এন্ড নয়, অর্থাৎ স্পটিফাই নিজেই ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে। এই তথ্য ব্যবহারকারীদেরকে নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন করে।
প্রযুক্তিগতভাবে, মেসেজের এনক্রিপশন TLS প্রোটোকল ব্যবহার করে ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় সুরক্ষিত করা হয়, এবং সার্ভারে সংরক্ষণের সময় AES-256 এনক্রিপশন প্রয়োগ করা হয়। যদিও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন না থাকলেও, স্পটিফাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ চ্যাট অ্যাপের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গ্রুপ চ্যাটের চালু হওয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক শোনার অভিজ্ঞতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। একাধিক ব্যক্তি একই সময়ে প্লেলিস্টে নতুন গান যোগ করতে পারবে, অথবা পডকাস্টের নির্দিষ্ট অংশে মন্তব্য করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে।
এ ধরনের রিয়েল-টাইম ইন্টারঅ্যাকশন নতুন কন্টেন্ট আবিষ্কারের পথও প্রসারিত করবে। ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের শোনার তালিকা থেকে সরাসরি সুপারিশ পেতে পারে, যা ব্যক্তিগতকৃত অ্যালগরিদমের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাবকে শক্তিশালী করবে।
স্পটিফাইয়ের এই সামাজিক ফিচারগুলোর ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে, কোম্পানি শুধুমাত্র স্ট্রিমিং সেবায় নয়, ব্যবহারকারীর সংযোগের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও গ্রুপ ফিচার, লাইভ চ্যাট বা শেয়ার্ড লিসেনিং সেশন যোগ করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গ্রুপ চ্যাটের পরিচয় স্পটিফাইকে একটি আরো ইন্টারেক্টিভ পরিবেশে রূপান্তরিত করছে, যেখানে শোনার অভ্যাসকে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



