বুন্দেসলিগা গেমে টটেনহ্যাম ২-০ গোলে ইন্টারটাখ ফ্রাঙ্কফুর্টকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ টিতে প্রবেশ নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের পর মিডফিল্ডার জোয়াও পালহিনহা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন।
টটেনহ্যাম বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে ১৪তম স্থানে রয়েছে, যেখানে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করেছে। এই ফলাফল কিছু ভক্তের মধ্যে অবনতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে দলটি দুইটি দেশীয় কাপ থেকেও বাদ পড়েছে।
ইউরোপীয় পর্যায়ে টটেনহ্যাম গ্রুপ স্টেজের শেষে চতুর্থ সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা তাদেরকে শেষ ১৬ তে দ্রুত পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। এই সাফল্য দলকে ইউরোপীয় মঞ্চে দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে দিয়েছে, যদিও দেশীয় লিগে সংগ্রাম চলছে।
বুন্দেসলিগা গেমে টটেনহ্যাম ২-০ স্কোরে জয়লাভের মূল কারণ ছিল দ্রুত আক্রমণ এবং দৃঢ় রক্ষণশক্তি। গোলদ্বয় প্রথমার্ধে দু’টি সুযোগে সম্পন্ন হয়, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে ত্বরান্বিত করেছে।
পালহিনহা গেমের পর মিডিয়ার সামনে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, “আমি জানি তোমরা আমার থেকে কী শোনার আশা করছো,” এবং হালকা হাসি দিয়ে কথাটি শেষ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়।” পালহিনহা জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি ধাপকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার, এবং বর্তমান সময়ে দলটির প্রধান দায়িত্ব প্রিমিয়ার লিগে ভাল ফলাফল অর্জন করা।
পালহিনহা দলের সম্মান ও তার নিজের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি চান। তিনি যোগ করেন, “আমরা যোগ্যভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং আমাদের কাজ হলো এই সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা।” তার কথায় স্পষ্ট যে, টটেনহ্যামকে ইউরোপীয় মঞ্চে গর্বিত করতে হলে দেশীয় লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
টটেনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক, ইনজুরি ও খেলোয়াড়ের যোগ্যতা সমস্যার কারণে মাত্র ১১ জন অভিজ্ঞ আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের সঙ্গে ম্যাচে প্রবেশ করেন। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফ্র্যাঙ্ক ৩-৪-২-১ ফরমেশন বজায় রাখেন, যা দলের আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক ভারসাম্যকে সমর্থন করে।
পালহিনহা ঐ গেমে ডান সেন্টার-হাফ হিসেবে খেলেছেন, যা তার বহুমুখিতা এবং দলের কৌশলগত নমনীয়তা তুলে ধরেছে। তার উপস্থিতি রক্ষণে অতিরিক্ত শক্তি যোগ করেছে এবং মিডফিল্ডে চাপ কমাতে সহায়তা করেছে।
গেমের গতি দ্রুত এবং আক্রমণাত্মক ছিল, যেখানে টটেনহ্যামের খেলোয়াড়রা সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পালহিনহার রক্ষণাত্মক ভূমিকা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে স্থিতিশীল করেছে, যা ফলস্বরূপ পরিষ্কার জয় নিশ্চিত করেছে।
পালহিনহা এবং দলের অন্যান্য সদস্যরা এই জয়কে প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিক উন্নতির সূচনা হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন যে ইউরোপীয় সাফল্য দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করবে এবং লিগে পয়েন্ট সংগ্রহে সহায়তা করবে।
টটেনহ্যাম আগামী সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা শীর্ষ দলে উঠে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে। একই সঙ্গে, চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ রাউন্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি চলবে।



