কিশোরগঞ্জের ৪ নম্বর (অষ্টগ্রাম‑ইটনা‑মিঠামইন) আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করতে বলা সত্ত্বেও না করা কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তার স্বীকৃত প্রার্থী মাওলানা খায়রুল ইসলাম ঠাকুরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। সিদ্ধান্তটি বৃহস্পতিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রার্থীকে তার প্রাথমিক সদস্যপদ ও সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অস্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গঠনতন্ত্রের ধারা ৩০ অনুসারে মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বহিষ্কারের পর, সংগঠনের কোনো নেতা‑কর্মীকে খায়রুল ইসলাম ঠাকুরের সঙ্গে নির্বাচন‑সংক্রান্ত বা সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক রাখতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এবং এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, কিশোরগঞ্জ‑৪ আসনে বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কোনো স্বীকৃত প্রার্থী নেই। ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পারস্পরিক সমঝোতা অনুযায়ী, এই আসনটি জামায়াত‑এ‑ইসলামির জন্য নির্ধারিত, ফলে দলটি এই আসনে নিজস্ব প্রার্থী দাখিল করতে পারবে না।
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদের মতে, প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নামের সঙ্গে প্রত্যাহারপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তবে জামায়াত‑এ‑ইসলামির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায়, খায়রুল ইসলাম ঠাকুরকে বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচন থেকে সরে আসতে বলা হয়। তিনি প্রত্যাহারপত্রে স্বাক্ষর না করার কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে সাময়িক বহিষ্কারের মুখে পড়েন।
হাসান জুনাইদ জানান, খায়রুল ইসলাম ঠাকুরের স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় নেওয়া হবে। এই পর্যন্ত, তিনি সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গঠনতন্ত্রের বিধি‑নিষেধের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। দলটি উল্লেখ করেছে যে, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের জন্য এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জামায়াত‑এ‑ইসলামি এই আসনে স্বীকৃত প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে, ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে বাদ দেওয়া রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোটের কাঠামো ও প্রার্থীর অবস্থান নির্ধারণে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হবে।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি, নির্বাচনী সমঝোতা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলে, দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও জোটের মধ্যে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা আরও পরিষ্কার হবে।



