বহুমুখী সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করা অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান সম্প্রতি তার কাজের দিকনির্দেশনা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন। তিনি চলচ্চিত্র, সঙ্গীত এবং লেখালেখি সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার বর্তমান কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
শ্রুতি বলেন, তিনি বিভিন্ন সৃজনশীল পথ অনুসরণ করতে পছন্দ করেন; সিনেমা, সঙ্গীত এবং লেখালেখি তার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, শিল্পের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি নিজের শারীরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যেখানে শারীরিক কাজের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ভূমিকা তার শিল্পী হিসেবে চ্যালেঞ্জের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।
অভিনেত্রীর কাজের তালিকা বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত। তার সাম্প্রতিক প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে “Aakasamlo Oka Tara” নামের চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি দুলকরের সলমানের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন। প্রথম দৃশ্যের প্রকাশের পর থেকে এই ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা তীব্রতর হয়েছে।
সিনেমা তার পেশাগত জীবনের একটি বড় অংশ হলেও, সঙ্গীত তার জন্য ব্যক্তিগত ও গোপনীয় একটি জায়গা রয়ে গেছে। তিনি জানান, প্রায় পঞ্চাশটি অপ্রকাশিত গান তার সংগ্রহে রয়েছে, যেগুলো তিনি তৎক্ষণাৎ প্রকাশের জন্য তাড়াহুড়ো করছেন না। তার মতে, সব শিল্পকর্মকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে বাধ্য হওয়া প্রয়োজন নেই; নিজের জন্য শিল্পী হওয়া যথেষ্ট সন্তোষজনক।
শ্রুতি হাসান তার সৃজনশীল প্রক্রিয়াকে বাহ্যিক স্বীকৃতির চেয়ে ব্যক্তিগত পূর্ণতায় ভিত্তিক বলে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, শিল্পী হিসেবে প্রথমে নিজে নিজে আনন্দ পেতে পারা সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে বিভিন্ন ধরণের কাজ গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য দেয়, যা তার ক্যারিয়ারকে বহুমুখী করে তুলছে।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি, তিনি প্রাণী কল্যাণের প্রতি তার উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন। তার সামাজিক মিডিয়া ও পাবলিক ইভেন্টে তিনি প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মকাণ্ডে তিনি কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দেন।
শ্রুতি হাসানের বর্তমান সময়কে তিনি “বিশেষভাবে ব্যস্ত” বলে বর্ণনা করেছেন। একাধিক চলচ্চিত্র, সঙ্গীত প্রকল্প এবং সামাজিক কার্যক্রম একসাথে পরিচালনা করার ফলে তার সময়সূচি টাইট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তিনি কাজের প্রতি উদ্দীপনা বজায় রেখেছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উন্মুক্ত।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে, অপ্রকাশিত গানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও তিনি সেগুলোকে ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার অংশ হিসেবে দেখেন। প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণের আগে তিনি গানের গুণমান ও তার নিজের সন্তোষকে অগ্রাধিকার দেন। এই পদ্ধতি তাকে শিল্পী হিসেবে স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চলচ্চিত্র “Aakasamlo Oka Tara”-এর প্রথম লুক প্রকাশের পর থেকে, ফ্যানদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। দুলকরের সলমানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে এবং ছবির প্রি-রিলিজ মার্কেটিং কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শ্রুতি হাসান উল্লেখ করেছেন, শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করা তার জন্য একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি এমন ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক, যেখানে শারীরিক প্রশিক্ষণ ও অ্যাকশন দৃশ্যের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের কাজ তাকে তার শারীরিক সীমা পরীক্ষা করার সুযোগ দেয় এবং তার শিল্পী পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে।
সামগ্রিকভাবে, শ্রুতি হাসানের বর্তমান পর্যায়ে তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্বকে সমন্বয় করে চলেছেন। সিনেমা, সঙ্গীত, লেখালেখি এবং প্রাণী কল্যাণের প্রতি তার অবদান তাকে একটি বহুমুখী শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে তিনি আরও বৈচিত্র্যময় প্রকল্পে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যা তার ভক্ত ও শিল্প সমালোচকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
শ্রুতি হাসানের এই দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের পদ্ধতি তরুণ শিল্পীদের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করে। তিনি নিজস্ব সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্বকে একসাথে মেলিয়ে চলেছেন, যা আধুনিক শিল্পের বহুমাত্রিকতা ও মানবিক দায়িত্বের সমন্বয়কে তুলে ধরে। তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর প্রতি দর্শক ও শিল্প জগতের মনোযোগ অব্যাহত থাকবে।



