শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের গুলিবিদ্ধে মৃত্যু ঘটার পর, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পাঁচটি প্লাটুনকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উভয় উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী‑ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সংঘটিত হয়। উভয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একে অপরকে দোষারোপের পরিণামে হিংসাত্মক সংঘর্ষে লিপ্ত হন, যার ফলে রেজাউল করিমের মৃত্যু এবং শতাধিক নেতাকর্মীর আঘাতের খবর পাওয়া যায়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মোট পাঁচটি প্লাটুনের দল মোতায়েন করা হয়েছে। এদের প্রধান কাজ হল জনসমাগমের স্থানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অশান্তি দমন করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা। মোতায়েনের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়ে, স্থানীয় জনগণকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।
সেই একই দিনে ঝিনাইগাতীর প্রধান বাজার ও পার্শ্ববর্তী রাস্তার পরিবেশ শূন্য হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং বাজারে সুনসান পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ ঘটনার পর থেকে তারা ঘরে বসে থাকেন এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন।
সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল শেরপুর‑৩ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান, যেখানে জামায়াত ও বিএনপি উভয় দলের নেতারা সমাবেশের আয়োজন করছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার পর দু’দলই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের উত্সাহিত করছিল, তবে সমাবেশের পরপরই দু’দলই একে অপরের উপর দোষারোপ করে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হয়। এই বিতর্ক দ্রুতই শারীরিক হিংসায় রূপ নেয় এবং রেজাউল করিমের গুলিবিদ্ধে মৃত্যু ঘটায়।
ঘটনাস্থলে আহতদের সংখ্যা দুইশোের বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক অন্তর্ভুক্ত, এবং তাদের বেশিরভাগই স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, “ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি অস্থায়ী হলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
শেরপুর জেলার পুলিশ সুপারintendent কামরুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি আরোপ করা হবে।
বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও স্থানীয় পুলিশ উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অশান্তি দমন করতে সচেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও সক্রিয় পদক্ষেপের ফলে রাস্তায় গাড়ি চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং বাজারের কিছু দোকান পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অধিক তদন্তের পর, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি দায়িত্ব আরোপের পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক সংঘর্ষ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



