অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহনশীল আচরণ করছে এবং বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। তিনি নির্বাচনের পূর্ববর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচার ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়ার পর আজ ২৯ তারিখে আট দিন অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে তা সামগ্রিক সহনশীলতার সঙ্গে বিরোধী নয়। তিনি বলেন, “একটি দুইটি অবশ্যই আইসোলেটেড ঘটনা ঘটছে; আমরা সেটা অস্বীকার করছি না।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে না।
প্রেস সচিবের মতে, নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি এই সংখ্যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করে দেখাতে চান যে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, “যদি আপনি এটা তুলনা করেন আগের নির্বাচনগুলোর সাথে তাহলে দেখবেন যে পরিস্থিতি…” এবং যোগ করেন, “অবশ্য নির্বাচনের এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি আছে; এখনো বলার মত কিছু হয়নি।”
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সহিংসতায় ১১৫ জনের প্রাণহানি হয়েছিল, শফিকুল আলম তা স্মরণ করে বলেন, “সে অনুযায়ী আমরা মনে করি যে রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহিষ্ণু আচরণ করছেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলগুলো এখনো আইন মেনে চলছে এবং প্রচারকালে পোস্টারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে। “আপনি খুব কম পোস্টার দেখবেন, পোস্টার কিন্তু আমরা অত দেখছি না। আচরণবিধি খুব ভালোভাবে তারা (রাজনৈতিক দলগুলো) মানছে,” তিনি যোগ করেন।
শেরপুরে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা মারা যাওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার পর দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের লড়াই তীব্র হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। শফিকুল আলম এই প্রেক্ষাপটে বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশের হিসাবে মারা গিয়েছেন চারজন, এই নির্বাচন সূচি ঘোষণার পরে মারা গিয়েছেন মোট চারজন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাগুলো সামগ্রিক সহনশীলতার সঙ্গে বিরোধী নয়।
প্রেস সচিবের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে চলার উদাহরণ হিসেবে পোস্টার নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “আপনি খুব কম পোস্টার দেখবেন, পোস্টার কিন্তু আমরা অত দেখছি না। আচরণবিধি খুব ভালোভাবে তারা (রাজনৈতিক দলগুলো) মানছে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের বাকি দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়বে এবং পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
শফিকুল আলমের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যদিও বিচ্ছিন্ন ঘটনার সংখ্যা শূন্য নয়, তবে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতা বজায় রেখেছে এবং আইনগত সীমার মধ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশের হিসাবে মারা গিয়েছেন চারজন, এই নির্বাচন সূচি ঘোষণার পরে মারা গিয়েছেন মোট চারজন।” এবং যোগ করেন, “অবশ্য নির্বাচনের এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি আছে; এখনো বলার মত কিছু হয়নি।”
প্রেস সচিব ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলো অনেকটা ভালো যাবে। আর আস্তে আস্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সদস্য মোতায়েন শুরু হবে। তো সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে, ইনশাল্লাহ।” তিনি এভাবে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলমের বক্তব্যে দেখা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে চলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশাবাদী যে, নির্বাচনের শেষের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং ভোটের দিনগুলো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।



