18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশন রেফারেন্ডামে সরকারী কর্মকর্তাদের ভোটের প্রচার নিষিদ্ধের নির্দেশ জারি

নির্বাচন কমিশন রেফারেন্ডামে সরকারী কর্মকর্তাদের ভোটের প্রচার নিষিদ্ধের নির্দেশ জারি

নির্বাচন কমিশন আজ সন্ধ্যায় একটি চিঠি জারি করে জানিয়েছে যে সরকারী কর্মচারী ও সরকারি পরিষেবায় নিযুক্ত কেউ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত রেফারেন্ডামের সময় ভোটারকে “হ্যাঁ” বা “না” ভোট দিতে প্ররোচিত করা নিষিদ্ধ। এই নির্দেশের লক্ষ্য রেফারেন্ডামের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষা করা।

চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সরকারি কর্মকর্তারা রেফারেন্ডামের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভোটারকে তথ্য প্রদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারেন। তবে তারা কোনো প্রার্থী বা মতামতকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার কোনো ইঙ্গিত দিতে পারবেন না। এমন কোনো প্রচার কার্যক্রমকে আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এটি সকল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক।

রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত বিধান ২০২৫ সালের রেফারেন্ডাম অর্ডিন্যান্সের ধারা ২১ এবং ১৯৭২ সালের প্রতিনিধিত্বের মানুষ আদেশের ধারা ৮৬-এ ভিত্তিক। এই আইনি ধারা অনুযায়ী সরকারী কর্মচারীর রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিষিদ্ধ এবং রেফারেন্ডামের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো প্রচারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে। শাস্তির মাত্রা অপরাধের গুরুতরতা ও প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল।

রেফারেন্ডামের মৌলিক তথ্য, তারিখ, ভোটের পদ্ধতি এবং ফলাফল প্রকাশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা মিডিয়া ও জনসাধারণের সঙ্গে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে ভোটারকে স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন। তবে তারা কোনোভাবে ভোটের দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন না; এই সীমাবদ্ধতা ভোটার স্বাধীনতা রক্ষার মূল নীতি হিসেবে বিবেচিত।

রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত কোনো প্রচারমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাস্তির আওতায় পড়বেন, যার মধ্যে জরিমানা ও পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শাস্তির উদাহরণ হিসেবে পূর্বে রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য, যা রেফারেন্ডামের ফলাফলকে নিরপেক্ষ রাখতে সহায়তা করবে।

চিঠিটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের নির্বাচন অফিসারদের এবং দেশের সব জেলায় ডেপুটি কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিস্তৃত বিতরণ নিশ্চিত করে যে নির্দেশনা সর্বত্র সমানভাবে প্রয়োগ হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কোনো লঙ্ঘন হলে তা রিপোর্ট করতে হবে, যা রেফারেন্ডাম পরিচালনায় সমন্বয় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য মো. আনওয়ারুল ইসলাম সরকার চেয়ারম্যানের মতে রেফারেন্ডাম অর্ডিন্যান্স স্পষ্টভাবে সরকারী কর্মচারীদের “হ্যাঁ” বা “না” ক্যাম্পেইন করা নিষিদ্ধ করেছে। এই বিধি লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে তথ্য প্রদান ও ভোটার শিক্ষা অনুমোদিত, তবে ভোটের দিকনির্দেশনা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। সরকারী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব না থাকলে ভোটার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে এই নির্দেশনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন কৌশল গড়ে তোলার প্রয়োজন সৃষ্টি করবে; তারা মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রচার বাড়িয়ে ভোটারকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। রেফারেন্ডামের ফলাফল পরবর্তী নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রেফারেন্ডাম পর্যন্ত সময়সীমা কমে আসায় সকল পক্ষকে আইন মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে রেফারেন্ডামের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে, যা ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহকে মূল লক্ষ্য করে। রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments