20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাগেরহাটে পুলিশ কান্না দেখানো ছবি এআই-নির্মিত, সত্য নয়

বাগেরহাটে পুলিশ কান্না দেখানো ছবি এআই-নির্মিত, সত্য নয়

বাগেরহাটের সাদার উপজেলা ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা কান্না করছেন এমন একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। ছবিটিতে দেখা যায়, সাদ্দামকে ঘিরে কয়েকজন পুলিশ চোখে অশ্রু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে রুমর স্ক্যানার দল এই ছবির সত্যতা যাচাই করে দেখেছে যে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং বাস্তব ঘটনার কোনো প্রমাণ নেই।

সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুভর্ণা স্বর্ণালী, বয়স ২২, এবং তাদের নয় মাসের শিশুর মৃত্যু সাম্প্রতিককালে বাগেরহাটের এক গ্রামে ঘটেছিল। সাদ্দাম তখন যশোর জেলায় আটক ছিলেন। পরিবারকে শেষবার দেখার অনুমতি দেওয়া হয় এবং মৃতদেহগুলো জেলার গেটের কাছে নিয়ে আসা হয়। এই দুঃখজনক ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে সাদ্দামের প্রতি সহানুভূতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তোলা হয়।

দুঃখের মুহূর্তে পুলিশ কর্মকর্তাদের কান্না দেখানো ছবিটি বিভিন্ন ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়। শেয়ারকারীরা দাবি করেন যে, ছবিটি বাস্তব এবং পুলিশ কর্মকর্তারা সাদ্দামের ক্ষতি নিয়ে গভীরভাবে কাঁদছেন। ছবিটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন মন্তব্যে পুলিশ ও জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

রুমর স্ক্যানার দল ছবিটি বিশ্লেষণ করতে বহু ডিটেকশন টুল ব্যবহার করে। হাইভ ডিটেক্ট এবং ডিপফেক-ও-মিটারসহ আধুনিক সফটওয়্যার দিয়ে ছবির পিক্সেল, রঙের বৈশিষ্ট্য এবং লেয়ার বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফল দেখায় যে, ছবির মূল উপাদান সাদ্দামের পূর্বে নেওয়া একটি আলাদা ফটো থেকে নেওয়া হয়েছে এবং AI অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখে অশ্রু যোগ করা হয়েছে। দল উল্লেখ করে, একই দৃশ্যের কোনো ভিডিও বা অতিরিক্ত ফটো পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানিক সূত্র থেকে জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ এই বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হল, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই ভুয়া ছবি তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং তথ্যভ্রান্তি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগও এই ধরনের কৃত্রিম মিডিয়া তৈরির পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এধরনের মিথ্যা প্রচার রোধে প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়া তথ্যভ্রান্তি এবং জনসাধারণের মনের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির দিক থেকে অপরাধমূলক দায়িত্বের আওতায় পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে আইনি শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, তদন্তকর্তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে।

এই ঘটনার পর, সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল বিষয়, যেমন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা দুর্যোগের সময়, ভুয়া ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমতকে প্রভাবিত করে। তাই, ব্যবহারকারীদের উৎসের সত্যতা যাচাই করে শেয়ার করা এবং অনির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ না করা জরুরি।

ভবিষ্যতে, রুমর স্ক্যানার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজিটাল ফেক কন্টেন্ট শনাক্তকরণে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এই ধরনের পদক্ষেপগুলোই সামাজিক মিডিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments