পাকিস্তানের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার ভোরের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করতে বাহাওয়ালপুর সেনাঘাঁটিতে উপস্থিত হয়ে ভারতের প্রতি কঠোর সতর্কতা জানিয়ে দেশের সামরিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা ঘোষণা করেন।
পরিদর্শনের সময় মুনির উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সকল সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের জটিলতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার কাজ অব্যাহত থাকবে।
মুনিরের মতে, শত্রুরা যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে, তাই পাকিস্তান দ্রুতগতিতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। তিনি জানান, শারীরিক সক্ষমতার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত কৌশলগুলো ভবিষ্যৎ যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী উদ্ভাবন, স্বদেশীকরণ এবং অভিযোজনের মাধ্যমে প্রযুক্তি আত্মস্থ করছে। নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন, সাইবার ক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সিস্টেমগুলোকে দ্রুত সংযোজনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
গত ডিসেম্বর মুনিরকে পাকিস্তানের স্থলবাহিনীর প্রধান পদ থেকে সেনা সর্বাধিনায়ক (তিন বাহিনীর প্রধান) পদে উন্নীত করা হয়। এই পদোন্নতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকারের অনুমোদনে সম্পন্ন হয় এবং দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে একক শীর্ষ কমান্ডে সংহত করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
পাকিস্তানের সংবিধানে পূর্বে তিনটি সশস্ত্র শাখার (স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা) প্রধানের উপরে কোনো একক পদ ছিল না; মুনিরের জন্য বিশেষভাবে সংবিধান সংশোধনের বিল পাস করে নতুন পদটি তৈরি করা হয়। এই পরিবর্তন সামরিক নীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় একত্রীকরণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
বহিরাগতভাবে, মুনিরের প্রথম ভাষণেই তিনি ভারতকে সরাসরি লক্ষ্য করে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতের কোনো ভুল ধারণা গঠন করা উচিত নয়, কারণ পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এখন দ্রুত, কঠোর এবং নির্ভীক হবে। এই মন্তব্যটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, মুনিরের এই ঘোষণার ফলে পাকিস্তানের সামরিক নীতি ও কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়তে পারে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত হলে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে সীমান্তে চলমান সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
অধিকন্তু, মুনিরের পদোন্নতি এবং সংবিধানিক পরিবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে একক কমান্ডের অধীনে তিনটি শাখার সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলবে।
সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের এই রূপান্তর এবং ভারতের প্রতি নতুন হুঁশিয়ারির মিশ্রণ দেশীয় নিরাপত্তা নীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



