নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ৪ ফেব্রুয়ারি পর যদি কোনো প্রার্থী আদালতের আদেশে তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেন, তবে সেই আসনে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করা যাবে না। এই ঘোষণা নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সরাসরি জানিয়েছেন।
আহমেদ জানান, আদালত যদি ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনরায় স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই সময় পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটে তাদের অন্তর্ভুক্তি বিবেচনা করা হবে। তবে ৮ ফেব্রুয়ারির পরে পুনর্বহাল হওয়া প্রার্থীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ থাকবে না।
এই সীমাবদ্ধতার মূল কারণ হল, পোস্টাল ব্যালট মুদ্রণ, ভোটারদের কাছে প্রেরণ এবং রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের ঘাটতি। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে, যার পরে ব্যালট প্রস্তুত ও সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে না।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, এই নিয়ম পুরো দেশের সকল আসনে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলে, যেসব প্রার্থী আদালতের মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারির পরে তাদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেন, তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট সংগ্রহের সুযোগ পাবেন না।
কমিশন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় যে, পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হয় এবং ভোটারদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়। একই সঙ্গে, রিটার্নিং অফিসারদের কাজের চাপ কমিয়ে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার না করা হলে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে ভোট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচনী প্রচারণার অন্যান্য দিকও পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হয়, তা হল নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানারের আকার। আচরণ বিধিমালার অনুসারে, ব্যানারকে সর্বোচ্চ দশ ফুট লম্বা এবং চার ফুট চওড়া হতে হবে। এই মাপের মধ্যে ব্যানার তৈরি করা বাধ্যতামূলক।
ব্যানার রঙিন করা যাবে না, তবে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রঙিন বিজ্ঞাপন অনুমোদিত। যদি কোনো দল বা প্রার্থী পিভিসি (PVC) ব্যানার ব্যবহার করে, তবে তা আচরণবিধির ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে এবং রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই নিয়মের লক্ষ্য হল, প্রচারণার সময় ভিজ্যুয়াল সামগ্রীতে অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার সীমিত করা, যাতে ভোটারদের উপর অপ্রয়োজনীয় প্রভাব না পড়ে। একই সঙ্গে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রঙিন বিজ্ঞাপনকে স্বীকৃতি দিয়ে আধুনিক প্রচারণার চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসাররা ব্যানার ও পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করবেন এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ সংশোধন করবেন। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, কমিশন উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো আপত্তি বা আইনি চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও প্রচারণা কৌশলে পরিবর্তন আসবে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।



