ঢাকার দক্ষিণ কমলাপুর, মতিঝিলে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আইন কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম ড. আনোয়ার ল’ কলেজ নির্ধারিত হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের নাম পরিবর্তনের আবেদনকে ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ফলাফল ও নতুন সরকার গঠনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নামকরণ সংক্রান্ত পুনর্বিবেচনা শুরু হয়, এবং এই কলেজও সেই ধারায় আবেদন করে।
বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজ ১৯৯৩ সালে ড. আনোয়ার হোসেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এটি দেশের অন্যতম স্বনামধন্য আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে এবং তার নামেই পরিচিত ছিল। ড. আনোয়ার হোসেনের শিক্ষার প্রতি নিবেদন ও আইন শিক্ষার উন্নয়নে অবদানকে সম্মান জানাতে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়।
গতীশ ৫ আগস্টের পর কলেজের ব্যবস্থাপনা ড. আনোয়ার হোসেনের নামে পুনঃনামকরণের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেয়। আবেদনপত্রে প্রতিষ্ঠাতার জীবনকথা, তার শিক্ষামূলক অবদান এবং নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠার শংসাপত্র, প্রতিষ্ঠাতার সিভি এবং পূর্বের নামের ব্যবহারিক রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা জারি করা হয়। অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. আনোয়ার ল’ কলেজের নাম পরিবর্তনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদিত এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অফিস আদেশের কপি ডিন, দপ্তর প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আইসিটি দপ্তরের পরিচালকসহ প্রয়োজনীয় সকল কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, কলেজের প্রশাসনিক দফতর, রেজিস্ট্রেশন অফিস এবং আর্থিক বিভাগকেও একই আদেশের নকল প্রদান করা হয়েছে, যাতে নাম পরিবর্তনের সকল প্রক্রিয়া সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়।
অতিরিক্তভাবে, কমলাপুর, মতিঝিলে অবস্থিত কলেজের অধ্যক্ষকেও আদেশের কপি প্রদান করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কাছে নতুন নামের ভিত্তিতে সাইনবোর্ড, লেটারহেড এবং অন্যান্য অফিসিয়াল ডকুমেন্ট আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলেজের কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন স্ট্রিমকে জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠাতা ড. আনোয়ার হোসেনের অবদানকে সম্মান জানিয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এই পরিবর্তনটি শিক্ষার্থীদের ও কর্মীদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নাম পরিবর্তনের ফলে সকল শংসাপত্র, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং ডিগ্রিতে নতুন নাম ব্যবহার করা হবে।
নাম পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে জারি করা ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং অন্যান্য শংসাপত্রে নতুন নাম ব্যবহার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে অবহিত করা হবে। এছাড়া, পূর্বে ডিগ্রি প্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্যও রেকর্ড আপডেটের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের পেশাগত প্রোফাইলে কোনো অসুবিধা না হয়।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারায় কোনো প্রভাব পড়বে না; বর্তমান সেমিস্টার এবং পরীক্ষার সময়সূচি পূর্বের মতোই চলবে। ভর্তি প্রক্রিয়া, ক্লাসের সময়সূচি এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার সবই অপরিবর্তিত থাকবে। প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, নাম পরিবর্তনের সময় শিক্ষার্থীদের কোনো অতিরিক্ত ফি বা শাস্তি আরোপ করা হবে না।
কলেজের সাইনবোর্ড, ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য প্রচার সামগ্রীতে নতুন নামের প্রতিফলন নিশ্চিত করা হবে। আইটি বিভাগ দ্রুতই ওয়েবসাইটের URL ও পেজ টাইটেল আপডেট করবে, আর ক্যাম্পাসের সাইনেজ ও প্রবেশদ্বার পরিবর্তন করা হবে। এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থী, কর্মী এবং দর্শনার্থীদের জন্য স্পষ্টতা বজায় রাখবে।
এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন উদাহরণ। গত বছরই একই বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি কলেজের নাম পরিবর্তন করে তাদের প্রতিষ্ঠাতা বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নামে নামকরণ করেছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
আপনি যদি এই কলেজে ভর্তি হতে চান বা বর্তমানে শিক্ষার্থী হন, তবে নতুন নামের ভিত্তিতে সকল নথি ও আবেদনপত্রে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে ভুলবেন না। বিশেষ করে ভর্তি ফর্ম, রেজিস্ট্রেশন স্লিপ এবং এক্সাম রোল নম্বরের ক্ষেত্রে ড. আনোয়ার ল’ কলেজের নাম ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কলেজের প্রশাসনিক দফতরে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে যে, সকল অনুসন্ধানের দ্রুত উত্তর দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।



