অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে বেলারুশি বিশ্বনম্বর আর্যনা সাবালেনকা বৃহস্পতিবারের ম্যাচে ইউক্রেনের এলিনা স্বিটোলিনাকে ৬-২, ৬-৩ স্কোরে পরাজিত করে চূড়ান্ত রাউন্ডে এলেনা রিবাকিনার মুখোমুখি হন।
ম্যাচের পর হ্যান্ডশেক না করার ঘোষণা রড লেভার আরেনায় দেওয়া হয়, দর্শকদেরকে “সম্মান” প্রদর্শন করতে বলা হয়। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্বিটোলিনা রাশিয়া ও তার মিত্র বেলারুশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করা একটি স্বাভাবিক পদক্ষেপ, এবং এই নীতি সেমিফাইনালের সময়ও অনুসরণ করা হয়।
সাবালেনকারা শুরুরই মুহূর্তে স্বিটোলিনার ওপর চাপ গড়ে তোলেন, প্রথম সেটে দ্রুত দুই গেমের পার্থক্য দিয়ে ৬-২ তে জয়লাভ করেন। দ্বিতীয় সেটে স্বিটোলিনা কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও, সাবালেনকা ধারাবাহিকভাবে সার্ভিস গেম জয় করে ৬-৩ স্কোরে ম্যাচটি শেষ করেন।
খেলাটির চতুর্থ গেমে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছিল। সাবালেনকারা গ্রান্টের সময় অতিরিক্ত শব্দের জন্য হিন্ডারেন্স কল পান, ফলে রেফারির ভিডিও রিভিউয়ের পর তিনি একটি পয়েন্ট হারান। দর্শকদের থেকে তীব্র গুঞ্জন শোনা যায়, তবে সাবালেনকা দ্রুত মনোযোগ পুনরুদ্ধার করে এবং দ্বিতীয় সেটের শুরুর দিকে সার্ভিস ব্রেক করে গেমের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসেন।
জয়লাভের পর সাবালেনকা চোখে জল নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তিনি বলেন এই সেমিফাইনাল তার স্বপ্নের জীবনের এক অংশ। তিনি স্বিটোলিনার প্রশংসা করে বলেন, “আমি এই জয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দিত, তিনি সত্যিই কঠিন প্রতিপক্ষ, পুরো সপ্তাহ জুড়ে অবিশ্বাস্য টেনিস খেলেছেন।” স্বিটোলিনাও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, তার দেশের পরিস্থিতি তাকে এই পরাজয়কে একটি বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য করেছে।
সাবালেনকা এই মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে জয়ী, তার জয় স্ট্রিক ১১ ম্যাচে পৌঁছেছে। তিনি ২০২৬ সালের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে প্রবেশের আগে ব্রিসবেন শিরোপা জিতেছিলেন, যা তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত কোনো সেট হারায়নি এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ ধারাবাহিক ফাইনালে পৌঁছেছেন।
রিবাকিনার সঙ্গে তার মুখোমুখি হওয়া একটি পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ হয়েছে, যার মধ্যে সাবালেনকা আটটি জিতেছেন। ২০২৩ সালের মেলবোর্ন ফাইনালে এই দুইজনের মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে সাবালেনকা তিন সেটে জয়লাভ করে শিরোপা জিতেছিলেন। এইবারও একই রকম উত্তেজনা প্রত্যাশিত, কারণ রিবাকিনা যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা পেগুলার বিরুদ্ধে সরাসরি সেটে জয়লাভ করে ফাইনালে প্রবেশ করেছেন।
পেগুলার বিরুদ্ধে রিবাকিনার জয়ও স্বচ্ছন্দে সম্পন্ন হয়, তিনি দুই সেটে ম্যাচটি শেষ করেন, ফলে তিনি এবং সাবালেনকা মেলবোর্নের চূড়ান্ত টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে মুখোমুখি হবেন। দুজনই এই মুহূর্তে ত্রয়ী শিরোপা অর্জনের পথে, সাবালেনকা চার বছরের মধ্যে তৃতীয় মেলবোর্ন শিরোপা জয়ের লক্ষ্য রাখছেন।
আসন্ন ফাইনালে দুজনের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টেনিস জগতের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে। সাবালেনকারা তার অপ্রতিরোধ্য আক্রমণাত্মক শৈলীর মাধ্যমে রিবাকিনার শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত, আর রিবাকিনা তার সুনির্দিষ্ট সার্ভিস ও দ্রুত পা দিয়ে প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত রাখতে চায়। উভয় খেলোয়াড়ই এই সিজনে কোনো সেট হারায়নি, যা ফাইনালকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
মেলবোর্নের এই চূড়ান্ত ম্যাচটি টেনিস প্রেমিকদের জন্য একটি বড় ইভেন্ট, যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্রীড়া দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত আবেগের মিশ্রণ দেখা যাবে। ফলাফল যাই হোক না কেন, এই দুই শীর্ষ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স টেনিসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হবে।



