শাহরুখ খান‑এর নতুন ছবি ‘কিং’‑এর ইউরোপে শ্যুট করা এক বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্সের খরচ ৫০ কোটি টাকা, যা ১০ দিনব্যাপী সম্পন্ন হয়েছে। ছবিটি ২০২৬ সালের ক্রিসমাসে মুক্তি পাবে এবং বলিউডের অন্যতম প্রত্যাশিত প্রকল্প হিসেবে গন্য হচ্ছে।
সিদ্ধার্থ অ্যানান্ড, যাকে হিন্দি সিনেমার শীর্ষ অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, ‘পথান’, ‘ব্যাং ব্যাং’, ‘ওয়ার’ এবং ‘ফাইটার’ সহ বহু হিটের পেছনে ছিলেন। এখন তিনি ‘কিং’ ছবির জন্য বাস্তব ইউরোপীয় লোকেশনে একটি চমকপ্রদ দৃশ্য তৈরি করছেন, যা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল মাত্রা বাড়াবে।
‘কিং’ ছবিতে শাহরুখ খান এবং তার কন্যা সুহানা খান প্রধান ভূমিকায় আছেন, সঙ্গে রয়েছে দীপিকা পাদুকোনে, অভিষেক বচ্চন এবং রানি মুখার্জি। এই কাস্টের সমন্বয় এবং অ্যানান্ডের দৃষ্টিভঙ্গি ছবিটিকে বছরের অন্যতম বড় আকর্ষণ করে তুলেছে।
প্রোডাকশন টিম ইউরোপের বিভিন্ন প্রকৃত স্থানে ৫০ কোটি টাকার একটি অ্যাকশন সিকোয়েন্স গড়ে তুলেছে, যা বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৃশ্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। এই দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত সেট, উচ্চ-ঝুঁকির স্টান্ট এবং উন্নত ক্যামেরা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
সিকোয়েন্সটি মোট ১০ দিন ধরে শ্যুট করা হয়েছে, প্রতিদিনের গড় ব্যয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এই তীব্র সময়সূচি এবং উচ্চ ব্যয় প্রোডাকশনকে দ্রুত অগ্রসর করতে সহায়তা করেছে, ফলে শ্যুটিং সময়সূচি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
শুটিংয়ের সময় শাহরুখ খান, অভিষেক বচ্চন এবং একটি বড় স্টান্ট টিম উপস্থিত ছিলেন, যারা উচ্চ-গতির গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করেছে। পুরো দলটি ইউরোপের ঐতিহাসিক স্থানে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে কাজ করেছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
শাহরুখ খান এই অ্যাকশন দৃশ্যের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও ধারণা দিয়ে অ্যানান্ডকে সহায়তা করে দৃশ্যের প্রতিটি ধাপকে সূক্ষ্মভাবে সাজিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে দৃশ্যটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।
দলটি দৃশ্যের প্রতিটি অংশে নিখুঁততা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। শ্যুটিংয়ের সময় ক্যামেরা কোণ, আলো এবং স্টান্টের সমন্বয় সর্বোচ্চ মানের জন্য সমন্বয় করা হয়েছে, ফলে চূড়ান্ত ফলাফলটি বড় পর্দায় চমকপ্রদ দেখাবে।
‘কিং’ ছবির শ্যুটিং জুন ২০২৬ পর্যন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পোস্ট-প্রোডাকশন কাজও সমান্তরালে চালু থাকবে, যাতে ক্রিসমাসের বড় স্ক্রিনে মুক্তির জন্য সবকিছু প্রস্তুত থাকে।
প্রকল্পের মোট উৎপাদন বাজেট প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা, যা মার্কেটিং ব্যয় বাদে হিসাব করা হয়েছে। এই পরিমাণ বাজেট বলিউডের আধুনিক যুগের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অ্যাকশন চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গন্য হয়।
এ ধরনের বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক লোকেশন ব্যবহার চলচ্চিত্রকে কেবল দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। ইউরোপীয় দৃশ্যের বাস্তবতা এবং উচ্চ-প্রযুক্তি স্টান্টের সংমিশ্রণ দর্শকদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
প্রযোজকরা চলচ্চিত্রটি বড় থিয়েটার অভিজ্ঞতা প্রদান করতে চায়, যেখানে দর্শকরা বড় স্ক্রিনে অ্যাকশনটির তীব্রতা ও রোমাঞ্চ সরাসরি অনুভব করতে পারবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কিং’ ছবিটি বলিউডের ভবিষ্যৎ অ্যাকশন জঁরার একটি মাইলফলক হতে পারে।
সিদ্ধার্থ অ্যানান্ডের নেতৃত্বে তৈরি এই উচ্চ-প্রোফাইল প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ক্রিসমাস ২০২৬-এ মুক্তি পাবে, এবং শোবার ঘরে নয়, বড় থিয়েটারে দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।



