ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবা ও তিগ্রায়ের উত্তরের শহরগুলোর মধ্যে পরিচালিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলো হঠাৎ বন্ধ করা হয়েছে। বাতিলের পেছনে পুনরায় সশস্ত্র সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উভয় প্রান্তের যাত্রীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইথিওপিয়া এয়ারলাইন্স সমস্ত দেশীয় রুট পরিচালনা করে এবং টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে যাত্রীদের জানিয়েছে যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। মেসেজে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং এয়ারলাইনস ও সরকার উভয়ই এই বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত মন্তব্য করেনি।
মেকেলে শহরের বিমানবন্দর কর্মীরা কর্মস্থলে না যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছে। এ তথ্য স্থানীয় কর্মীদের কাছ থেকে জানা যায় এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করেছে।
২০১২ সালে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি, যা তিগ্রায়ের দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল, এখন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে এবং জুন মাসে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিগ্রায়ের তেসলেমতি জেলার মাই দেগুশা এলাকায় ফেডারেল সেনাবাহিনী ও তিগ্রায়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিনের সীমান্তবিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এবং সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণ উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে।
পাশের আমহারা অঞ্চল থেকে তিগ্রায়ের পশ্চিমের উর্বর ভূমি দখল করা হয়েছে, যা এখনো সমাধানহীন বিরোধের মূল কারণ। সরকার এই বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি গণভোটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তবে তা বাস্তবায়নের শর্ত ও সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধের সময় প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ এই অঞ্চলে স্থান ত্যাগ করে তিগ্রায়ের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসতি স্থাপন করেছে। শিবিরের জীবনযাত্রা কঠিন এবং এই জনগণ ভোটাধিকারের বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
দক্ষিণ তিগ্রায়ে নতুন সামরিক গতি-প্রকৃতির তথ্য পাওয়া গেছে, যা পুনরায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এই গতি-প্রকৃতি উভয় দিকের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইথিওপিয়া এয়ারলাইন্স এখনও ফ্লাইট স্থগিতের কারণ বা পুনরায় চালু করার সময়সূচি সম্পর্কে কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। এয়ারলাইনসের নীরবতা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন পূর্বে সরকার ও তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে শান্তি চুক্তি (প্রিটোরিয়া এগ্রিমেন্ট) মধ্যস্থতা করে একটি অস্থায়ী প্রশাসন গঠন করেছিল। এই চুক্তি তিগ্রায়ের স্বায়ত্তশাসন ও পুনর্গঠনকে কেন্দ্রবিন্দু করে ছিল, তবে বর্তমান উত্তেজনা তা ক্ষুণ্ন করেছে।
তিগ্রায়ের পরিবহন প্রধান তাদেলে মেংগিস্তু বিমানবন্দরের ফ্লাইট বাতিল নিশ্চিত করেছেন, তবে বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তার মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিবেচনা থেকে নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধের পরেও আদিস আবাবা ও তিগ্রায়ের মধ্যে বাস পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে বিমানবন্দরের বন্ধের প্রভাবের কারণে এই সেবাগুলোর সময়সূচি ও রুটে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে জুনের জাতীয় নির্বাচন এবং সম্ভাব্য গণভোটের ফলাফল তিগ্রায়ের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল না হয়, তবে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের অতিরিক্ত মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে।



