ডেমোক্র্যাটিক লেফট অ্যালায়েন্স ও অ্যান্টি‑ফ্যাসিস্ট লেফট ফ্রন্ট আজ ঢাকা শহরের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সামনে একত্রিত হয়ে নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT)‑কে বিদেশি সংস্থার কাছে লিজে দেওয়ার পরিকল্পনা বন্ধের দাবি জানায়। রেলি অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের আগে, যখন সরকারকে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বলা হচ্ছে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্র্যাটিক লেফট অ্যালায়েন্সের নেতা এবং সোশ্যালিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ জেনারেল সেক্রেটারি বাজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি সমাবেশের সূচনা করে লিজ প্রক্রিয়ার ঝুঁকি ও রাজনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ সভাপতি সাজ্জাদ জাহির চন্দন, অ্যান্টি‑ফ্যাসিস্ট লেফট ফ্রন্টের সমন্বয়কারী শুভরঙ্গসু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য মুস্তাক হোসেন, রেভোলিউশনারি কমিউনিস্ট লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর আবদুস সাত্তার এবং ডেমোক্র্যাটিক রেভোলিউশনারি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি মোসরেফা মিশু।
সাজ্জাদ জাহির চন্দন উল্লেখ করেন, সরকার জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে NCT‑এর লিজ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলতে পারে।
চন্দন আরও যুক্তি দেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয় এবং তাই জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক অনুমোদন নেই। তিনি এ ধরনের চুক্তি না করা উচিত বলে জোর দেন।
বক্তারা একমত যে বন্দর টার্মিনালকে বিদেশি সংস্থার হাতে ছেড়ে দিলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা উল্লেখ করেন, এমন লিজের ফলে কৌশলগত সম্পদ ও বাণিজ্যিক সুবিধা বিদেশি স্বার্থের অধীনে চলে যাবে।
সমাবেশে অতীতের শাসনকালকে ১৫ বছর ধরে নির্বাচনের অভাবের সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, পূর্বের স্বৈরশাসক সরকার ভারতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সম্পদকে ত্যাগ করেছে।
এদিকে, বর্তমান শাসক দলকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে দেশের স্বার্থকে ত্যাগকারী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, নতুন লিজ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৌশলগত অবকাঠামোকে আমেরিকান কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে আনা হতে পারে।
এই সমাবেশের রাজনৈতিক প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লিজ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নির্বাচন প্রচারাভিযানের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বাম জোটের নেতারা সরকারকে লিজ প্রক্রিয়া স্থগিত করতে এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে স্বচ্ছ আলোচনা চালাতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতীয় সংসদে অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না।
সমাবেশের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একসাথে নিলাম করা হয় যে, দেশের কৌশলগত সম্পদকে রক্ষা করার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এবং সরকারের নীতি পরিবর্তনের ইচ্ছার ওপর।



