২০২৫ সালে জাপানের সিনেমা শিল্প মোট ২৭৪.৪৫ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১.৭৯ বিলিয়ন ডলার) আয় করে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি। এই তথ্য মুভি প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অফ জাপান প্রকাশ করেছে এবং ২০১৯ সালের পূর্ব রেকর্ড ২৬১.১৮ বিলিয়ন ইয়েনকে অতিক্রম করেছে। রেকর্ডের এই উত্থান গ্লোবাল থিয়েটার বাজারের জন্য আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোভিড‑১৯ মহামারীর পর কয়েক বছর ধরে জাপানের সিনেমা হলগুলো শূন্য আসন দেখেছিল, তবে ২০২৫ সালে দর্শকসংখ্যা ও টিকিট বিক্রয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। ভোক্তাদের সিনেমা হলের প্রতি আগ্রহ ফিরে এসেছে এবং নতুন কন্টেন্টের প্রতি চাহিদা তীব্র হয়েছে। এই পুনরুৎথান দেশীয় উৎপাদনের শক্তি ও সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হল অ্যানিমে সিরিজ ‘ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল – পার্ট ১’, যা একাই প্রায় ৩৯.১৪ বিলিয়ন ইয়েন (২৫৫ মিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। সিরিজের উচ্চমানের অ্যানিমেশন, আকর্ষণীয় গল্প ও পরিচিত চরিত্রগুলো দর্শকদের বড় পরিমাণে আকৃষ্ট করেছে। অ্যানিমের এই সাফল্য জাপানের অ্যানিমে শিল্পের আন্তর্জাতিক সুনামকে আরও মজবুত করেছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরণের বড় বাজেটের প্রকল্পের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে।
অ্যানিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী থিয়েটার শৈলীর চলচ্চিত্র ‘কোকুহো’ বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ এই লাইভ‑অ্যাকশন কাবুকি নাটক ১৯.৫৫ বিলিয়ন ইয়েন (১২৭ মিলিয়ন ডলার) আয় করে দেশীয় লাইভ‑অ্যাকশন চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে তুলেছে। সমালোচকদের প্রশংসা পেয়ে এই ছবি সাংস্কৃতিক মূল্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক সাফল্যও অর্জন করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
ডেমন স্লেয়ার ও কোকুহোর পরেও শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে ‘ডিটেকটিভ কনান: ওয়ান‑আইডেড ফ্ল্যাশব্যাক’ (৯৫.৮ মিলিয়ন ডলার), ‘চেইনসো ম্যান – দ্য মুভি: রেজে আর্ক’ (৬৭.৮ মিলিয়ন ডলার), ‘সেলস এট ওয়ার্ক!’ (৪১.১ মিলিয়ন ডলার), ‘টোকিও মের: মোবাইল ইমারজেন্সি রুম – নানকাই মিশন’ (৩৩.৯ মিলিয়ন ডলার), ‘এক্সিট ৮’ (৩৩.৩ মিলিয়ন ডলার) এবং ‘ডোরায়মন দ্য মুভি: নোবিতার আর্ট ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এই তালিকা অ্যানিমে, পরিবারিক থ্রিলার ও ঐতিহাসিক নাটকের মিশ্রণকে তুলে ধরে, যা জাপানের দর্শকদের বৈচিত্র্যময় রুচি প্রতিফলিত করে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের ফলাফল দেখায় যে জাপানের সিনেমা বাজার এখন বৈচিত্র্যময় কন্টেন্টের মাধ্যমে পুনরায় শক্তি অর্জন করছে। অ্যানিমে এখনও প্রধান আয় উৎস হলেও, ঐতিহ্যবাহী নাট্যশৈলীর চলচ্চিত্রের উত্থান শিল্পের সৃজনশীল দিককে সমৃদ্ধ করছে। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, বিশেষ করে উচ্চমানের অ্যানিমেশন ও সাংস্কৃতিক থিয়েটার প্রকল্পের ক্ষেত্রে।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে থিয়েটার প্রতিযোগিতা তীব্র হলেও, বড় স্ক্রিনে অভিজ্ঞতা এখনও দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় রয়ে গেছে। ২০২৫ সালে থিয়েটার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্দেশ করে যে সিনেমা হলের অনন্য পরিবেশ ও বড় স্ক্রিনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এখনও জনপ্রিয়। ফলে, ভবিষ্যতে হাইব্রিড মডেল—স্ট্রিমিং ও থিয়েটার উভয়ের সমন্বয়—বাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈদেশিক চলচ্চিত্রের বাজার অংশও স্থিতিশীল রয়ে গেছে, তবে দেশীয় উৎপাদনের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষ দশের অধিকাংশ চলচ্চিত্র জাপানি নির্মাতা, যা স্থানীয় কন্টেন্টের প্রতি দর্শকের আস্থা ও পছন্দকে প্রতিফলিত করে। এই প্রবণতা জাপানের চলচ্চিত্র শিল্পকে স্বনির্ভরতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই সময়টি নতুন রিলিজ উপভোগের সেরা মুহূর্ত। অ্যানিমে ও ঐতিহ্যবাহী থিয়েটার উভয়ের মিশ্রণ দেখলে জাপানের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক দৃশ্যের এক ঝলক পাবেন। তাই, আসন্ন সপ্তাহে থিয়েটার প্রোগ্রাম চেক করে আপনার পছন্দের শিরোনামগুলোতে টিকিট বুক করা উচিত, যাতে বড় স্ক্রিনের অনন্য অভিজ্ঞতা মিস না হয়।



