19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিটি প্রোসিকিউশন চ্যাঙ্কারপুল হত্যাকাণ্ডে পাঁচজন প্রাক্তন পুলিশকে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইছে

আইসিটি প্রোসিকিউশন চ্যাঙ্কারপুল হত্যাকাণ্ডে পাঁচজন প্রাক্তন পুলিশকে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আজ সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করে চ্যাঙ্কারপুল হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত পাঁচজন প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে। এই আপিলটি জুলাই বিদ্রোহের সময় ঢাকা চ্যাঙ্কারপুল এলাকায় ছয়জনের মৃত্যু ঘটানো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রোসিকিউশন দাবি করে যে পূর্ববর্তী রায়ে কিছু দোষীকে হালকা শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

আইসিটি প্রোসিকিউশন গাজি এম.এইচ. তামিম আদালতে জানান যে আপিলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে আপিল দায়েরের পর দোষীদের মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দোষীদের জন্য জামিন বা অন্য কোনো রিলিজ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

২০১৯ সালের জুলাই বিদ্রোহের সময় চ্যাঙ্কারপুল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে ছয়জন নাগরিক নিহত হন। ঘটনাটি তখনকার রাজনৈতিক অশান্তির প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল এবং পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে আসে। আইসিটি এই মামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে তদন্ত চালিয়ে আসে।

সুপ্রিম কোর্টে আপিলের পূর্বে, ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি পাঁচজনকে বিভিন্ন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন যৌথ কমিশনার সুধীপ কুমার চক্রবর্তী এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম। বাকি দোষীদের জন্য শাস্তি নির্ধারিত হয়েছিল বিভিন্ন সময়সীমা অনুযায়ী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুধীপ কুমার চক্রবর্তী এবং শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এই তিনজনের অপরাধের মধ্যে চ্যাঙ্কারপুলে গুলিবর্ষণ এবং নাগরিকদের হত্যা অন্তর্ভুক্ত। ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর রায় দেয়।

প্রাক্তন রামনা জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগের পুলিশ স্টেশন অপারেশনস ইনস্পেক্টর আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন, নাসিরুল ইসলামকে প্রত্যেককে তিন বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই শাস্তিগুলি অপরাধের তীব্রতা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। দোষীদের মধ্যে নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে হালকা শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রোসিকিউশন এই পাঁচজন দোষীর জন্য মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে, যা পূর্বের রায়ে নির্ধারিত কারাদণ্ডের তুলনায় অধিক কঠোর শাস্তি। তামিমের মতে, অপরাধের গুরত্ব এবং শিকারদের সংখ্যা বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা ন্যায়সঙ্গত। এই আপিলের ফলাফল আইসিটি এবং দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।

প্রোসিকিউশন জোর দিয়ে বলেছে যে আপিল দায়েরের পর দোষীদের জন্য জামিন বা অন্য কোনো রিলিজের সুযোগ থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “বিলম্বে কোনো রিলিজের প্রক্রিয়া নেই; আপিল দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়।” এই অবস্থায় দোষীরা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করতে বাধ্য।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আইসিটি আপিলের শোনানিরিখ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের শাস্তি কার্যকর হবে অথবা নতুন রায়ের ভিত্তিতে শাস্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে। এই মামলার অগ্রগতি দেশের মানবাধিকার ও আইনি ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments