শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে সংঘটিত হিংসা, যার ফলে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, তা আজ বিএনপি ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিনের মতে অপ্রয়োজনীয়। তিনি গুলশানের বিএনপি ইলেকশন অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সংঘর্ষের কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ নেই।
মাহদি আমিন উল্লেখ করেন, শেরপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী অনুষ্ঠানে এক দল নির্ধারিত সময়ের আগেই সব চেয়ার দখল করে নেয়, আর অন্য দলকে বসার জায়গা থেকে বঞ্চিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেন কাঠি ও লাঠি নিয়ে উপস্থিতি ঘটল, এবং কেন ওই দলের প্রার্থী বহুবার অনুরোধের পরও মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনা সম্পূর্ণভাবে বোঝা কঠিন।
স্থানীয় প্রশাসন অনুষ্ঠানটি সকল প্রার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজন করেছিল এবং প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে, মাহদি আমিনের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা চেয়ার দখল করে, বিএনপি নেতৃবৃন্দকে তাদের নির্ধারিত সিটে বসতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের বহুবারের অনুরোধ সত্ত্বেও এই দখল অব্যাহত থাকে।
মাহদি আমিন জোর দিয়ে বলেন, চেয়ার দখল নিয়ে হিংসা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহৎ জনগণ নির্বাচনের সময় উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা করছিল, কিন্তু হিংসা ঘটিয়ে তা নষ্ট হয়েছে।
ঘটনার সূচনা, দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। মাহদি আমিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বারবার অনুরোধের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর কাছে নির্দিষ্ট রুট না নেওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবু প্রার্থী অব্যাহতভাবে ঐ রুটে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং “যদি প্রয়োজন হয় তবে জীবন হারাতে হবে” এমন বক্তব্য দেন। এই ধরনের দৃঢ়সঙ্কল্পিত আচরণই শেষ পর্যন্ত হিংসার দিকে নিয়ে যায়।
মাহদি আমিনের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে এক ব্যক্তির প্রাণহানি গভীর শোকের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, শেরপুরে হিংসায় ৪০টিরও বেশি বিএনপি নেতা ও কর্মী জড়িত ছিলেন, যদিও তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিএনপি স্পোকসপিকার এই বিবৃতি অনুসারে, ঘটনাটির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, যদি তদন্তে কোনো পক্ষপাত দেখা দেয় তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করবে।
শেরপুরে ঘটিত এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। বিশেষত, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায়, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে অনুমান করা যায়।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয় পক্ষই এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে না, তবে উভয় দলের মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপের অভাবই ভবিষ্যতে অনুরূপ সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অবশেষে, মাহদি আমিনের আহ্বান অনুসারে, স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই শেরপুরে ঘটিত হিংসার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বশীলদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে পুনরুদ্ধার করা এবং ভোটারদের আস্থা পুনরায় গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।



