র্যাব-১০ের দল ২৮ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের বিএডিসি অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি অনুসন্ধান অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পরিত্যক্ত ঝোপঝাড়ের মধ্যে তিনটি ধাতব লিভারযুক্ত গ্রেনেড এবং শটগান ও গ্যাসগানের মোট ৭১টি কার্তুজ পাওয়া যায়। এই অস্ত্রগুলোকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় জননিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি সৃষ্টি করত।
র্যাবের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গ্রেনেড ও কার্তুজগুলো সম্ভবত ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের সময় কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া গোলাবারুদের অংশ। ঐ দিন দেশে বিভিন্ন থানায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অনুসন্ধানমূলক অভিযানকে উত্সাহিত করে।
ফরিদপুরে র্যাবের দলটি সিপিসি-৩ এবং ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল নিয়ে গঠিত ছিল। দলটি ঝোপঝাড়ের ভেতরে গোপনভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলো ধাতব লিভারযুক্ত এবং কোনো বিস্ফোরক পদার্থের চিহ্ন না থাকলেও, সেগুলো অবিস্ফোরিত অবস্থায় থাকায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
শটগানের ৪১টি এবং গ্যাসগানের ৩০টি কার্তুজও একই স্থানে পাওয়া যায়। এই কার্তুজগুলো বিভিন্ন ধরণের গোলাবারুদ নির্দেশ করে, যা একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহারিক সরঞ্জাম হতে পারে। র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এই ধরণের গোলাবারুদ যদি ভুল হাতে পড়ে তবে জনসাধারণের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।
উদ্ধারকৃত গ্রেনেড ও কার্তুজগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয় এবং ফরিদপুরের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়। ল্যাবের ফলাফল অনুযায়ী গ্রেনেডের বিস্ফোরক উপাদান নির্ধারণ করা হবে এবং কার্তুজের উৎপত্তি ও ধরণ চিহ্নিত করা হবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অপরাধী সনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
র্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম জানান, দেশের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় র্যাব সর্বদা প্রস্তুত এবং এমন ধরনের অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, র্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে এবং ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে তৎপর থাকবে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রী নিয়ে চলমান তদন্তে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। র্যাবের তদন্তকর্তা দল গ্রেনেড ও কার্তুজের উৎপত্তি, লুটের সময়কাল এবং সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ধরনের অবৈধ অস্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও আইন প্রয়োগের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। র্যাবের ধারাবাহিক অভিযান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ গোলাবারুদ সনাক্তকরণে সহায়তা করছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অবশেষে, র্যাবের এই সফল অভিযান স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লুটের ঘটনা রোধে সতর্কতা বাড়াবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছে, কোনো সন্দেহজনক অস্ত্র বা গোলাবারুদ পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে nearest law enforcement agency-তে জানাতে।



